• রোববার   ২০ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
একসঙ্গে ঘর পেল ৫৩ হাজার অসহায় পরিবার, বিশ্বে নজিরবিহীন দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে- শিক্ষামন্ত্রী আজ থেকে হাইকোর্টের ৫৩ বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকার্য ‘নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে’ প্রথম দিন সিনোফার্মের টিকা নিলেন ৪৩২০ জন

কুড়িগ্রামে একই গাছে বড় হচ্ছে পরিপক্ক আম ও আমের মুকুল

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২১  

প্রকৃতির অপরূপ খেয়াল একই আম গাছে বড় হচ্ছে আম। আবার একই সঙ্গে বের হচ্ছে আমের নতুন সদ্য মুকুল। এসব আম দেখে অনেকে নিজ বাড়ির আঁঙ্গিনায় এই আম রোপণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
প্রকৃতির এই বাস্তব ঘটনাটি দেখা গেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার শেষ সীমানাবর্তী স্থান ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের উত্তর নগরাজপুর গ্রামে। 

এক আমের গাছে পূর্ণাঙ্গ পরিপক্ক আম ও সঙ্গে আমের মুকুল বের হওয়ার দৃশ্যটি অনেককে অবাক করেছে। এ গ্রামের নুর ইসলামের বাড়িতেও এমন আম গাছের দেখা মিলেছে। এছাড়াও একই উপজেলার বড়ভিটা ইউপির পূর্ব-ধনিরাম গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক গোলাম রসূলের বাড়িতেও এমন আম গাছ দেখা গেছে। 

তবে বৃক্ষপ্রেমী মরহুম কাশেম আলীর বাড়িতে ছুটে আসছেন অনেকে। অন্যান্যদের তুলনায় বৃক্ষপ্রেমী ছাবেদ আলীর আম গাছটিতে ফলন ভালো হওয়ায় কেউ কেউ আম-মুকুলের ছবি করছেন ক্যামেরাবন্দী। একই ডালে পূর্নাঙ্গ আম ও মুকুল আসার ঘটনাটিতে অনেকে বলছেন এটি বারোমাসিয়া আমের জাত। তাই এমনটি হচ্ছে। 

জানা গেছে, উত্তর নগরাজপুর গ্রামের শিক্ষিত অভিজ্ঞ মরহুম ছাবেদ আলী তার বাড়িতে ফলের চাহিদা মেটানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন উন্নত জাতের ফল-ফলাদি রোপণ করেন। গত প্রায় বছর চারেক আগে তিনি একটি আমের চারা বাড়ির আঁঙ্গিনায় রোপণ করেন। এই আমের চারাটি বেশ বড় হতে থাকে। দুই বছর পর আমের মুকুল আসা মৌসূমে অন্যান্য দেশীয় আমের গাছের সঙ্গে এই আম গাছটিতে মুকুল আসে। পরবর্তীতে গাছটির আম স্বাভাবিক ভাবে বড় ও পরিপক্ক থাকে। একদিকে আম পরিপক্ক হচ্ছে অন্যদিকে আমের একই ডালে আবার মুকুল আসা শুরু হয়। 

ছাবেদ আলীসহ তার পরিবারের লোকজন অবাক হন। তারা ওই গাছ খেকে পরিপক্ক আমগুলো ছিঁড়ে খান ও অপেক্ষা করেন মুকুল আসা আমের দিকে। এখানে দেখেন ওই আমের মুকুল থেকে তিন মাস পর আবার পরিপক্ক আম হয়েছে। এভাবে বারোমাসেই আমের মুকুল আসছে আর আম হচ্ছে। 

ছাবেদ আলীর ছেলে ঢাকায় কর্মরত আব্দুল আজিজ সরকার মিজান বলেন, আমার বাবা একজন বৃক্ষপ্রেমি ছিলেন। উনি আমাদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সব সময় উন্নত জাতের ফল-ফলাদি চাষ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত চার বছর আগে বাড়ির আঁঙ্গিনায় উন্নত জাতের একটি আমের চারা রোপণ করেন। দুই বছর পর স্বাভাবিক ভাবেই আমের গাছটিতে মুকুল আসে। আমও বড় হয়। আম পাকার প্রাক্কালে আমরা দেখতে পাই গাছটিতে আবার পূর্বের মতো আমের মুকুল ধরতে শুরু করেছে। 

তিনি আরও জানান, আমরা ওই গাছের পাকা আম খেয়ে বুঝতে পারি আমটি অনেক সু-স্বাদু। এরপর থেকে আমরা পরিবারের লোকজন বারোমাসেই ওই আমের গাছ থেকে আম খাচ্ছি। গাছটি থেকে ৩০ থেকে ৫০ টি করে আম উৎপাদন হচ্ছে। বছরের প্রতি তিন মাস পরপর আমরা আম খাচ্ছি। যা একটি অসাধারন ব্যাপার। 

ওই পরিবারের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, আমার শ্বশুর আমাদের জন্য অনেক কিছু রেখে গেছেন। তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমিক ছিলেন। উন্নত জাতের এই আম গাছটির আম খেয়ে এখন বারোমাসেই আমের চাহিদা মিটাতে পাচ্ছি। 

গৃহবধূ মোস্তারী বেগম জানান, ছাবেদ আলী আমাদের আত্মীয়। ঈদে তার বাড়িতে এসে একই গাছে পরিপূর্ণ আম ও নতুন আমের মুকুল দেখে অভিভূত হয়েছি। এটি আমাদেরকে প্রেরণা যুগিয়েছে। আমরা আমাদের পরিবারে এই জাতের আম গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা করছি।
অপর আম গাছ মালিক গোলাম রসূলের স্ত্রী গৃহবধূ এছপা বেগম জানান, আমার স্বামী উন্নত জাতের আম হিসেবে একটি আমের চারা কিনে এনে রোপণ করেন। এই আম গাছ থেকে এখন প্রতি তিন মাস পরপর আম খেতে পাচ্ছি। আম গুলো সু-স্বাদু হওয়ায় আমাদের খুব ভালো লাগে। 

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদফতর খামার বাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, কুড়িগ্রামের যেসব স্থানে একই গাছে আম ও ফুল দেখা যাচ্ছে। এসব আম বারোমাসে উৎপাদন হয় এমন কোনো জাতের আম হতে পারে। 

তিনি আরো বলেন, বারো মাসে উৎপাদন হয় এমন অনেক জাতের আম আছে। এরমধ্যে বারিয়ান জাতের আমটি উন্নত ফলনশীলদের মধ্যে অন্যতম।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –