• বুধবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৭

  • || ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র বাংলাদেশেরই বাড়ছে জিডিপি- জাতিসংঘ ঘরে বসেই খাজনা দিতে পারবেন ভূমির মালিক- ভূমিমন্ত্রী দিনাজপুরে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল তিন যুবকের রংপুরে ৩ ইটভাটা মালিককে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন যুবলীগ নেতা, কাঁদলেন হাজারো মানুষ

কুড়িগ্রামে ফলকের ওপর থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সরানো নিয়ে গুঞ্জন 

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২০  

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নির্মিত একটি সীমানা ফলক থেকে প্রায় এক বছর পূর্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সরিয়ে নেয়ার ঘটনা ম্যুরাল আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে প্রশাসন পড়েছে বিব্রত অবস্থায়। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যুরাল নিয়ে দেশ ব্যাপী যে ঝড় বইছে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রচার প্রচারনায় মাঠে নেমেছে একটি পক্ষ। প্রকৃত পক্ষে ম্যুরাল নয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সরিয়ে নেয়া হয় সরকারের নির্দেশনায়। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রী পরিষদ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুজিববর্ষের বরাদ্দে ম্যুরাল নয় দুস্থদের বাড়ি বানিয়ে দিন”।

এমন অবস্থায় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-র কুড়িগ্রামের ডিস্ট্রিক্ট ফেসিলেটর ফারুক আহমেদ প্রতিকৃতি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। এভাবে ঘটনার সূত্রপাত।
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-র ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে সীমানা ফলকটি নির্মাণ করা হয়। ফলকটির একদিকে ‘স্বাগতম ভিতরবন্দ ইউনিয়ন’ এবং অন্যদিকে ‘খোদা হাফেজ ভিতরবন্দ ইউনিয়ন’ লিখে উভয়দিকে ‘বাল্য বিবাহকে না বলুন’ শ্লোগান লেখা হয়। এছাড়াও ফলকের উভয় দিকের শীর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৬ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি সাইজের টাইলসের উপর ছাপানো ছবি (প্রতিকৃতি) লাগানো হয়। কিন্তু এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের এমআইএস এন্যালিষ্ট অর্জুন কুমার সূত্রধর এর এক চিঠির নির্দেশনায় টাইলসের এ ছবি ফলকের উভয় দিক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

এ প্রকল্পের সভাপতি এবং ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আছমা বেগম সাফ বলেন, এটি ম্যুরাল নয় টাইলসের উপর ছবি। চেয়ারম্যানসহ আমরা ভালবেসে ও শ্রদ্ধা জানাতে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেই। এলজিএসপি’র প্রকল্পের অধিনে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে এ কাজ করেছি। কোন অনিয়ম হয়নি।

এলজিএসপি’র কুড়িগ্রামের ডিস্ট্রিক্ট ফেসিলেটর ফারুক আহমেদ সরকারি নির্দেশনা দেখিয়ে বলেছেন,‘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যেখানে সেখানে লাগানো যাবে না। এতে বঙ্গবন্ধু’র অবমাননা হবে। আর এ প্রতিকৃতি না সরালে এ প্রকল্পের বিল ছাড় করা হবে না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে সরকারি নির্দেশনা মানতে প্রতিকৃতি সরিয়ে নিয়েছি। 

মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করা ওই ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দিন দাবি করেন, ‘কতিপয় মিডিয়া তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে এখানে ম্যুরাল সরানোর কোন ঘটনা নেই। আমি কিছু জানতামও না। মোবাইলে সাংবাদিকদের তাই বলেছি। বলেছি খোঁজ-খবর নেবো। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি-সীমানা ফলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের টাইলসের উপর ছাপানো ছবি লাগানো হয়। পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনায় সরিয়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ কিংবা বিক্ষোভ নেই। যা প্রায় এক বছর আগের ঘটনা। 

ভিতরবন্দ ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাসান আলী বলেন, ছবি বা প্রতিকৃতি ম্যুরাল নয়। কাজেই এনিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। আমার জানামতে প্রতিকৃতি সরানো হয়েছে প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে। তবে একথা সত্য সীমানা ফলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকলে ভাল লাগত।

এ ব্যাপারে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘আমি ওই ফলকের উভয় দিকে জাতির পিতার প্রতিকৃতি স্থাপন করেছিলাম শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা থেকে। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিচিত করতে। কিন্তু এলজিএসপি প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফেসিলেটর ম্যুরাল না সরালে প্রকল্পের বিল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারে সিদ্ধান্ত জানান। তখন আমি পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের মতামত নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সরিয়ে নিতে বাধ্য হই। এর পরে প্রকল্পের বিল পাওয়া যায়। এঘটনা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটলেও হঠাৎ করে আমার প্রতিপক্ষ গ্রুপ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর জন্য। আমি আশা করি প্রশাসন তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এ ব্যাপারে এলজিএসপি’র ডিস্ট্রিক্ট ফেসিলেটর প্রতিকৃতি সরানোর বিষয়ে সঠিক জবাব দিতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত এলজিএসপি প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফেসিলেটর ফারুক আহমেদ জানান, ‘যত্রতত্র জাতির পিতার ছবি স্থাপন না করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সম্বলিত একটি চিঠি আমাদের প্রকল্প দপ্তর থেকে পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে চলতি বছর ফ্রেব্রæয়ারি মাসে জাতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমি ভিতরবন্ধ ইউনিয়নের সীমানা ফলক থেকে জাতির পিতার ছবি (প্রতিকৃতি) সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সে মোতাবেক কাজ হওয়ায় প্রকল্পের বিল ছাড় করা হয়।”

কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতি আর ম্যুরাল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। কোনটি ম্যূরাল আর কোনটি ছবি বা প্রতিকৃতি তা সবার জানা উচিৎ।’
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূর আহমেদ মাছুম বলেন, ‘এ ঘটনা প্রায় এক বছর পূর্বের। ম্যুরাল নয় এটি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। যা সরকারের নির্দেশনায় সরানো হয়েছে। কোন আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রকল্পের স্বার্থে এটি করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান বলেন, কুড়িগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সরানোর কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে এক বছর পূর্বে ভিতরবন্ধ ইউনিয়নের সীমানা ফলকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের কয়েকদিনের মাথায় সরানো হয় সরকারি নির্দেশনায়। এতদিন পর এ ঘটনাকে ভুল ব্যাখা দিয়ে যেন কেউ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ নিতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –