• রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফলমূল ও মিষ্টান্ন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঈদে জনস্রোতে করোনায় নতুন ধাক্কা লাগার আশঙ্কা: ওবায়দুল কাদের লালমনিরহাটে ঈদের দিনে কৃষাণী`র ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ রংপুরে অনলাইনে পণ্য বিক্রির কথা বলে টাকা আত্মসাৎ, প্রতারক আটক

কুড়িগ্রামে বিয়ের এক মাসের মধ্যে লাশ হয়ে ফিরল গৃহবধূ তারামনি

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২১  

অনেক আশা আর আকাংখা নিয়ে স্বামীর ঘরে গিয়েছিল কিশোরী তারামনি। উনিশ বছরের তারামনি তার তিশোর্ধ স্বামী হাফিজুর রহমান হাবু মিয়ার ঘরে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে প্রবেশ করে। একমাস হয়েছে তাদের বিয়ের। এখনো মহেদীর রঙ গায়ে লেগে আছে। সেই তারামনির মরদেহ পাওয়া গেল স্বামীর ঘরেই। মৃতদেহ রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী হাফিজুর রহমান হাবু মিয়া। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকান্ড তা নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের চাঁদেরহাট এলাকার দোলারপাড় গ্রামে। এ ঘটনায় তারামনির বড় ভাই আজাদুল ইসলাম বাদী হয়ে নাগেশ^রী থানায় স্বামী হাফিজুর রহমান হাবু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ মরদেহের সুরৎহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করেছে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, একমাস আগে নাগেশ্বরীর দোলারপাড় গ্রামের আবদার আলীর পূত্র হাফিজুর রহমান হাবু মিয়ার সাথে পাশর্^বর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার আব্দুস ছালামের কন্যা তারামনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ঘরে অবস্থান করছিল তারামনি। সোমবার ভোরে সেহরী খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পরে। অনেক বেলা অবধি তারামনির সাড়া না পেয়ে তাকে ডাকতে যায় বাড়ির লোকজন। ভিতর থেকে সাঁড়া না পেয়ে দরজা ভাঙতে গিয়ে সবাই লক্ষ্য করে দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো। দরজা খুলে বিছানায় তারামনিকে নিথর অবস্থায় পরে থাকতে দেখা যায়। এসময় তার নাক দিয়ে ফেনা আটকে ছিল। পরে স্থানীয়রা নাগেশ^রী থানায় ও মেয়ের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়।

এ ব্যাপারে তারামনির বড় ভাই আজাদুল ইসলাম জানান, বোনের মরদেহ দেখে সন্দেহ করা হচ্ছে সেহরি থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোন এক সময় হাফিজুর জোড় করে কীটনাশক পান করিয়ে বা শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে। পরে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে সে পালিয়ে যায়। এ কারণে আমি থানায় একটি অভিযোগ করেছি। আমি তারামনি হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবীর জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। লাশ সুরৎহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও হাফিজুরকে খোঁজা হচ্ছে। সুরৎহাল রিপোর্ট পেলে জানা যাবে এটি হত্যাকান্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –