ব্রেকিং:
দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৯৪৪ জনে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে বড় ভাই আদম আলীর ধারালো কাচির আঘাতে ছোট ভাই শাপলা মিয়া (৫০) নিহত
  • বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় নির্মাণ অবকাঠামো হলো পদ্মাসেতু পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে সেবার মান দিনাজপুরে আশার আলো জাগিয়েছে ‘ব্রি ধান ৮৭’ কুড়িগ্রামে বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ চার এমওইউ স্বাক্ষর হতে পারে হাসিনা-মোদি ভার্চুয়াল বৈঠকে ৪৩তম বিসিএসে নিয়োগ পাবেন ১৮১৪ জন

দিনাজপুরে চাষ হচ্ছে ‘তরল সোনা’র!

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

উত্তরের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরে আগর চাষ হচ্ছে। আগর কাঠ থেকে সুগন্ধি, আতর, আগরবাতি তৈরি হয়। এছাড়াও তৈরি হয় ওষুধ। আগর কাঠের গুঁড়া বা পাউডার ধূপের মতো জ্বালিয়ে সুগন্ধি পাওয়া যায়। অনেকেই আগরের নির্যাসকে তরল সোনা হিসেবেও বিবেচনা করেন। দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে দলগতভাবে আগর চাষ হচ্ছে। এই আগর চাষ উজ্জল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগ পরীক্ষা মুলকভাবে শুরু করে আগর বাগান। স্থানীয় ব্যক্তিদের উপকারভোগী হিসেবে সম্পুক্ত করে এই আগর বাগান গড়ার কার্যক্রম শুরু করেন বন বিভাগ।

সদর ফরেষ্ট রেঞ্জের আওতায় বিরল উপজেলার ধর্মপুর শালবনের কালিয়াগঞ্জ, বিরামপুর চরকাই রেঞ্জের আওতায় কালিশহর শালবন এবং নবারগঞ্জে ভাদুরিয়া এবং বীরগঞ্জের সিংড়া ফরেষ্টের ৩৩ একর জমিতে বাগান করা হয় আগরের।

শাখা-প্রশাখাবিহীন সোজা লম্বা দেখতে গাছগুলো আকার আকৃতিতে অনেকটা শাল বা গজারি গাছের মতো। এ গাছে সাদা রঙের ফুল এবং ফল ক্যাপসুল আকৃতির। আগর গাছের পাতা দেখতে অনেকটা লিচু বা বকুল গাছের পাতার মতো।

স্থানীয় সাংবাদিক সুমান সারোয়ার জানালেন, ইতিমধ্যে আগর গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে। অতিমূল্যবান এই আগর গাছ থেকে নির্যাস তৈরির সময়ও এসেছে।

উদ্ভিদবিদ ও সংগঠক মোসাদ্দেক হোসেন জানালেন, ১০ বছর বয়সেও আগর নির্যাস কাঠ সংগ্রহের উপযোগী করা হয়। আগরের গাছে আগর সংগ্রহ করার জন্য সারা গাছে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে রেখে দেওয়া হয়। পরে ওই গাছের পেরেক মারা জায়গায় আঠাঁ জমে ফাংগাসের মাধ্যমে কালো বা খয়েরি রঙের সৃষ্টি হয়। গাছ কেটে কাঠ সংগ্রহ করে ছোট টুকরা করে তা কিছু দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর কারখানায় বিশেষভাবে নির্মিত চুল্লিতে রেখে তাপ দেওয়া হয়। তাপ দেওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় আগর থেকে আগর অয়েল বা নির্যাস পাওয়া যায়।

দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের ফরেস্টার মো.সাদেকুর রহমান সাদেক জানালেন, উৎপাদিত আগরের সবচেয়ে বড় বাজার এখন মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এছাড়াও ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানেও আগর রপ্তানি হয়। এই আগরের নির্যাস প্রকার ভেদে প্রতি লিটার ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

রপ্তানিমুখী এ শিল্পের বিকাশে আগর গাছের উপর গবেষণা জোরদার, চাষ সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনাসহ প্রক্রিয়াজাতকরণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে এ শিল্পের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে,ফলে দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হবে মনে করেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে আগর বাগান ঘুরে দেখে গেছে, মূল্যবান এই উদ্ভিদ আগর চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগ। তাদের এই সাফল্য এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। এ বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে দিনাজপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই আগর বাগান গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –