• সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ২৯ ১৪২৭

  • || ২৯ শা'বান ১৪৪২

সর্বশেষ:
আপদকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ৪৮৩ উপজেলায় ৩ লাখ টাকা করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চরাঞ্চলের স্কুলের সাথে ফ্রান্সের মতবিনিময় চলতি সপ্তাহেই ২০০ শয্যার আইসিইউ হাসপাতাল প্রস্তুত হবে লকডাউনে রফতানিমুখী শিল্প কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে রংপুরে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

পাকাঘর ও আসবাব পাচ্ছে উলিপুরে জয়নালের তৈরি পাঠাগার 

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২১  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে দিনমজুর জয়নাল আবেদিনের মজুরি বিক্রির টাকায় প্রতিষ্ঠিত গ্রাম পাঠাগার ‘সাতভিটা গ্রন্থনীড়’ সেমিপাকা ভবন ও আসবাবপত্র পেতে যাচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে জয়নালের পাঠাগারটির জন্য লোকাল গভনর্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) থেকে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফেসিলেটেটর (ডিএফ) ফারুক আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএফ ফারুক আহমদ বলেন, ‘সম্প্রতি জয়নালের গ্রাম পাঠাগার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন লোকাল গভনর্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এনামুল হাবিব মহোদয়ের নজরে আসলে তিনি এ বিষয়ে আমাকে খোঁজ নিতে বলেন। পরে আমি সরেজমিন ওই পাঠাগারটি পরিদর্শন করে পিডি স্যারকে অবহিত করি। পরে পিডি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক পাঠাগারটির নতুন সেমিপাকা ভবন, আসবাবপত্র ও বই ক্রয়ের জন্য এলজিএসপি প্রকল্প থেকে পাঁচ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
এলজিএসপি-৩ এর প্রকল্প পরিচালক এনামুল হাবিব (যুগ্ম সচিব) এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানান, ‘গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা বেশ কিছু কাজ করে যাচ্ছি। কুড়িগ্রামের ওই গ্রাম পাঠাগারটির উন্নয়নে আমরা কাজ করতে চাই। এজন্য আমরা পাঠাগারটির পাকা ঘর নির্মান ও আসবাবসহ বই সরবরাহের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এবছরই তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
২০১৮ সালে রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জানিয়ে পিডি এনামুল হাবিব বলেন, ‘রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ওই অঞ্চল নিয়ে আমার একটা অনুভূতি কাজ করে। জয়নালের গ্রাম পাঠাগার নিয়ে প্রতিবেদন পড়ে জয়নালের পাঠাগারটির উন্নয়নে করনীয় ঠিক করতে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধিকে বলেছি। মানুষের জ্ঞান চর্চা ও বই পাঠে পাঠাগারটি অনেক অবদান রাখতে পারে। আমরা দ্রুতই পাঠাগারটি নির্মাণ করে দেবো।’

এর আগে গ্রাম পাঠাগার ‘সাতভিটা গ্রন্থনীড়’ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গ্রাম পাঠাগারের উদ্যোক্তা জয়নাল আবেদিনের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাতভিটা গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে তিনি। জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত‌্যন্ত একটি গ্রামে ২০১৫ সালে শ’ খানেক বই নিয়ে নিজ বাড়িতে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন জয়নাল। প্রাথমিকের গন্ডি পেরুতে না পারা দিনমজুর জয়নালের নিজ উদ্যোগে গ্রাম পাঠাগার স্থাপনের বিষয়টি সর্বমহলে প্রশংসা কুড়ায়।

নতুন ভবন পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত পাঠাগারের উদ্যোক্তা জয়নাল আবেদিন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত তার স্বপ্ন বাস্তায়নের পাশাপাশি বই প্রেমিদের আরও উজ্জীবিত করবে বলে বিশ্বাস তার।

তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই আনন্দের খবর। অভাবের কারণে আমি প্রাথমিকের গন্ডি পেরুতে না পারলেও বইয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। আমি প্রতিনিয়ত গ্রামের শিশু কিশোরদের বই পড়তে উৎসাহ দিয়ে আসছি। সে ধারাবাহিকতায় নিজ খরচে ‘ সাতভিটা গ্রন্থনীড়’ পাঠাগার স্থাপন করেছি। পাকা ঘরসহ আরও বই পেলে পাঠাগারটি যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি এর পাঠক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও অনেকে এমন কাজ করতে আগ্রহী হবে।’

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –