• রোববার   ২০ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
একসঙ্গে ঘর পেল ৫৩ হাজার অসহায় পরিবার, বিশ্বে নজিরবিহীন দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে- শিক্ষামন্ত্রী আজ থেকে হাইকোর্টের ৫৩ বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকার্য ‘নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে’ প্রথম দিন সিনোফার্মের টিকা নিলেন ৪৩২০ জন

পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা চেষ্টা!

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২১  

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কোলের শিশু সন্তানকে ব্রীজ থেকে পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে পথচারীরা কুড়ি মিনিট পর শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পারিবারিক অশান্তি ও অনটনের কারণে শিশুটিকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল স্বামী পরিত্যক্তা ওই শিশুর মাতা জমিলা বেগম। বর্তমানে শিশুটি একটি দম্পতির হেফাজতে রয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকায়। ঘটনার জনার পর উপজেরা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার শর্মা প্রশাসন থেকে শিশুটির দেকভালের জন্য সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
শিশুটির মাতা জমিলা বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, এক বছর আগে দুই মাসের সন্তান জাহিদকে নিয়ে স্বামীর বাড়ী রংপুর থেকে বিতাড়িত হয় সে। পরে ফিরে আসে ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের দরিদ্র পিতা জয়নাল মিয়ার বাড়ীতে। তার ফিরে আসায় খুশি ছিল না দিনমজুর বাবা জয়নাল মিয়া। অভাব অনটনের সংসারে বাড়তি বোঝা নিয়ে আসায় প্রায়ই এনিয়ে ঝগড়া বিবাদ হত। এক পর্যায়ে শিশু সন্তানের ভরণ পোষন নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো তার বাবা। ঘটনার দিন সন্তানের খাবার ও তেল সাবান কেনার জন্য সকলের অগোচরে বাড়ীর দুই কেজি চাল বিক্রির ঘটনা তার বাবা জানতে পেরে ভীষণ রাগান্বিত হন এবং  জমিলাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। মনের দুঃখে অবুঝ শিশুকে নিয়ে হতাশ জমিলা বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাশিম বাজার সংলগ্ন একটি ব্রীজের ২০ ফিট নীচে অথৈই পানিতে তার কোলের সন্তানকে ফেলে দেয়। এখন সন্তানকে ফিরে পেতে চায় জমিলা।

প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল হোসেন ও সন্তোষ জানান, সকাল নয়টার দিকে  বাড়ি থেকে ওই পথে বাজারে যেতে ওই  মহিলাকে ব্রীজের উপর থেকে পানিতে কিছু ফেলতে দেখেন তারা। কাছে গিয়ে নীচে তাকিয়ে দেখেন একটি শিশু পানিতে ভাসছে এবং চিৎকার করে হাত-পা নাড়াচ্ছে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় ফরিদুল ও অপর এক পথচারী প্রায় ২০ মিনিট পর শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে। অসুস্থ্য শিশুটিকে উদ্ধারের পর আগুন জ্বালিয়ে তাপ দেয়া হয়। পরে ব্রীজের পাশে রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতি শিশুটিকে হেফাজতে নেন এবং শুশ্রুর্ষা চালান।  

এলিনা বলেন, শিশুটিকে তার বুকের দুধ খাওয়ানো হয়েছে। শিশুটিকে তিনি লালন পালন করতে চান।

জমিলা বেগমের পিতা জয়নাল মিয়া জানান, সকালে আমি ও আমার ছেলে মাটি কাটতে এসেছি। মাটিকাটার স্থানের অদুরে মানুষের কোলাহল শুনে জানতে পারি আমার মেয়ে জমিলা তার ছেলে জাহিদকে পানিতে ফেলে দিয়েছে। দুই বছর আগে রংপুরের মর্ডানমোড়ের ভর্ত্ত কবিরাজের ছেলে হাফিজুরের সাথে জমিলার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের এক বছর পরেই দুই মাসের কোলের শিশুকে নিয়ে সংসার ভাঙ্গে জমিলার। এদিকে তিন সন্তান নিয়ে তার বড় মেয়ে জরিনা আগেই সংসারে বোঝা হয়ে রয়েছে। তবে জমিলা কেন এই কাজ করেছে তা তিনি জানেন না বলে জানান।

জমিলার মা জবেদা বেগম জানান, প্রায় জমিলার সন্তান নিয়ে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো। তার খরচ চালাতে চাইতো না জমিলার বাবা। 

জমিলার বৃদ্ধা নানী সুফিয়া বেওয়া জানান, তার ভিক্ষাবৃত্তির চাল দিয়ে মাঝেমধ্যে জমিলার সন্তানের খরচ চলতো। তবে জমিলা তার সন্তানের জন্য অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে। এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে আজকে সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়েছে। 

বলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জানান, শিশুটি আপাতত রফিকুল ও এলিনা বেগম নামে এক দম্পতির কাছে রয়েছে। তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হবে।  

এ ব্যাপারে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও দীপক কুমার শর্মা জানান, পারিবারিক কলহে শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেয়ার খবর জেনেছি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিবারটির অবস্থা জেনে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –