• মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৫ ১৪২৭

  • || ২৫ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুরে করোনাকালে নেতৃত্বদানকারী ১১ নারীকে সম্মাননা ধর্ষককে কেন সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলা হয় না: শিক্ষামন্ত্রী ওআইসির মহাসচিবের সঙ্গে জেদ্দায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য গাইবান্ধার শ্রেষ্ঠ থানা গোবিন্দগঞ্জ বাংলাদেশের অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করেছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট

রজব মাসের ফজিলত ও আমল 

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

মহান রব্বুল আলামিনের অশেষ দয়া যে, তিনি বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার মধ্যে মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রজব মাস দান করেছেন। রজব ও শাবান মাস হচ্ছে মাহে রমজানের আগমনী বার্তা। আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আল-কোরআনে যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন তার একটি হলো রজব। এটি নাম ও অর্থগতভাবে প্রাচুর্যময় ও সম্মানিত মাস। এ মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করতে প্রিয় নবি (স)-এর এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নবিজি বলেছেন—‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

মর্যাদাবান এ মাসটির পুরো নাম হলো—‘রজবুল মুয়াজ্জব’। এর অর্থগত তাত্পর্য হলো—‘রজব’ অর্থ—সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুয়াজ্জব’ অর্থ সম্মানিত। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’। এ মাসটি মুমিন মুসলমানের ইবাদতের মাস, বরকত লাভের মাস। কেননা রসুলুল্লাহ (স) কোমরে কাপড় বেঁধে এ মাসের ইবাদত বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। তিনি এই মাসে এবং এর পরবর্তী শাবান মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পাওয়ার জন্য দোয়া পড়তেন; তার উম্মতকেও তিনি দোয়া পড়ার জন্য তাগিদ করেছেন। দোয়াটি হচ্ছে—‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান’। অর্থ—হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; আর রমজান মাস আমাদের নসিব করুন। (বুখারি ও মুসলিম)

রজব এবং শাবান মাস জুড়ে নবি করিম (স.) অত্যধিক আমল-ইবাদত করতেন, রমজানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেন। নিজের মন-মানসিকতাকে পরিচ্ছন্ন করতে তিনি অধিকাংশ সময় ইবাদতে মশগুল থাকতেন। রজব এবং শাবান মাস জুড়ে নবিজি কি পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি করতেন তা উম্মুহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকে আমরা স্পষ্ট জানতে পারি। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত উম্মে সালমা (র) বলেন—‘রসুলুল্লাহ (স) রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতঃপর রজব মাসে।’ হজরত আয়েশা (র) বলেন—‘যখন রজব মাস আসত, আমরা রসুলুল্লাহ (স)-এর আমলের আধিক্য দেখেই তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রসুলুল্লাহ (স) রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন এবং শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন। (দারেমি)

রজব মাসের বিশেষ আমল সমূহের মধ্যে অন্যতম হলো—বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি (স)-এর নিয়মিত আমল—প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। এছাড়া শুক্রবারসহ এমাসেও আইয়ামে বিজের রোজা অর্থাৎ চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ নফল রোজা পালন করা। রোজা রাখার পাশাপাশি এ মাস জুড়ে নফল নামাজ বেশি বেশি আদায় করা। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশ্ত-দোহা, জাওয়াল, আওয়াবিন, তাহিয়াতুল মসজিদ, দুখুলুল মসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি। আর সব সময় নবি করিম (স)-এর শেখানো দোয়াটি পড়া আমাদের জন্য একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে অধিক পরিমাণে ইবাদতে মশগুল থেকে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক: শাহ্ সুফি সাইয়্যেদ আহমাদুল্লাহ্ যোবায়ের
আজিমপুর দায়রা শরিফের বর্তমান সাজ্জাদানশিন পির ও মুতাওয়াল্লি

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –