• রোববার   ২০ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
একসঙ্গে ঘর পেল ৫৩ হাজার অসহায় পরিবার, বিশ্বে নজিরবিহীন দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে- শিক্ষামন্ত্রী আজ থেকে হাইকোর্টের ৫৩ বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকার্য ‘নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে’ প্রথম দিন সিনোফার্মের টিকা নিলেন ৪৩২০ জন

শয়তান যেভাবে নামাজিকে ধোঁকা দেয়

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১  

শয়তান মুমিনের প্রকাশ্য শত্রু। মুমিনের ইবাদত ধ্বংস করাই তার একমাত্র কাজ। শয়তানের এই মিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো, মুমিনের নামাজ নষ্ট করা। কারণ নামাজ এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর খুব কাছাকাছি চলে যায়। গুনাহমুক্ত হয়ে যায়। জান্নাতের অধিকারী হওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা নামাজের হেফাজত করে, তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতে। (সুরা : মাআরিজ, আয়াত : ৩৪-৩৫)

এ জন্যই শয়তান মানুষকে নামাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে গেলে বিভিন্নভাবে তার নামাজকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করে। নিম্নে শয়তানকর্তৃক নামাজিদের ধোঁকা দেওয়ার কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো—

নামাজে অমনোযোগ সৃষ্টি করে : শয়তান নামাজরত মুসল্লির মনে বিভিন্ন দুনিয়াবি চিন্তা প্রবেশ করিয়ে দেয়। ফলে নামাজরত মুসল্লির মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়।  আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আজানের শব্দ না শোনে। যখন আজান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন নামাজের জন্য ইকামত বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়। ইকামত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পোঁছে যে সে কয় রাকাত নামাজ আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না। (বুখারি, হাদিস : ৬০৮)

নামাজে উদাসীনতা সৃষ্টি করে : শয়তান কখনো কখনো কুমন্ত্রণা দিয়ে নামাজির মনে উদাসীনতা এনে দেয়, ফলে সে ঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে না। অলসতার দরুন কখনো কখনো নামাজই ছেড়ে দেয়। যা একজন মুমিনকে ধ্বংস করে দেয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, কাজেই দুর্ভোগ সে নামাজ আদায়কারীদের, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে উদাসীন। (সুরা : মাউন, আয়াত : ৪-৫)

নামাজে অমনোযোগী বা উদাসীন বলে ওই লোকদের বোঝানো হয়েছে, যারা মোটেই নামাজ পড়ে না অথবা প্রথম দিকে পড়ত অতঃপর তাদের মধ্যে অলসতা এসে পড়েছে অথবা নামাজ যথাসময়ে আদায় করে না; বরং যখন মন চায় তখন পড়ে নেয় অথবা দেরি করে আদায় করতে অভ্যাসী হয় অথবা বিনয়-নম্রতার (ও একাগ্রতার) সঙ্গে নামাজ পড়ে না ইত্যাদি।

নামাজে এদিক-সেদিক তাকাতে কুমন্ত্রণা দেয় : আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে নামাজে এদিক-ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার নামাজ থেকে বিশেষ অংশ ছিনিয়ে নেয়। (বুখারি, হাদিস : ৭৫১)

নামাজির মনে লৌকিকতা সৃষ্টি করে : শয়তান কখনো কখনো নামাজির মনে অহংকার, লৌকিকতা এনে নামাজির নামাজ ছিনতাই করে। তখন লোক দেখানো উদ্দেশ্য হওয়ার কারণে সেই নামাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। পবিত্র কোরআনে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়াকে মুনাফিকদের কাজ বলা হয়েছে। ‘যখন তারা (মুনাফিকরা) নামাজে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সঙ্গে, শুধু লোক-দেখানোর জন্য দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে থাকে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪২)

মহান আল্লাহ সবাইকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –