ব্রেকিং:
ভারত থেকে করোনাভাইরাসের ৩৫ লাখ টিকা বাংলাদেশে আসছে বৃহস্পতিবার
  • বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৭ ১৪২৭

  • || ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
সংস্কৃতিচর্চা নতুন প্রজন্মকে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখবে-তথ্যমন্ত্রী দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট ভ্যাকসিনের মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিতে প্রটোকল ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করবে বাংলাদেশ ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে শহীদ আসাদ দিবস একটি অবিস্মরণীয় দিন’

সুগম হলো বাংলাদেশে টিকা পাওয়ার পথ

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২১  

নতুন বছরের প্রথম দিনেই করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে সুখবর দিল ভারত। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেল শুক্রবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার তৈরি করোনার ভ্যাকসিন জরুরি ক্ষেত্রে প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে। এর ফলে চলতি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের টিকা পাওয়ার পথ আরও সুগম হলো।

কোভিশিল্ড নামে অক্সফোর্ডের এই টিকা তৈরির ভারতীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর। সে অনুযায়ী বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিন কোটি ডোজ টিকা দেবে সিরাম। এই দুটো দেশে একই সময়ে টিকা দেয়ার বিষয়ে সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি সমঝোতাও হয়েছে।

ভারতে টিকা অনুমোদন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন বাংলাদেশে টিকা প্রয়োগের জন্য আলাদা করে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ টিকা পেতে পারে বলে আশার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তৈরি করা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পক্ষ থেকে জরুরি ক্ষেত্রে এই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এ বার ভারতের ‘ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়া’ থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পর এই মাস থেকে কেন্দ্র টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা এই টিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে।

শনিবার থেকে ভারতের সব রাজ্যে টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্যমগ্রাম ও দত্তাবাদের উচ্চ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং আমডাঙার গ্রামীণ হাসপাতালে বহু প্রতীক্ষিত করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হবে। প্রাথমিকভাবে ২৫ জনের ওপর এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয়ে যাবে ড্রাই রানের কাজ।

গত ২৭ ডিসেম্বর ব্রিটেনে ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশটিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই টিকাটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এর অর্থ হলো টিকাটি নিরাপদ এবং কার্যকর। বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও বলছেন, ব্রিটেনের অনুমোদনের পর বাংলাদেশেও এই টিকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। খুব শিগগির বাংলাদেশের লোকজনকেও এই টিকা দেয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে এই টিকার ক্লিনিক্যাল কোনো পরীক্ষা হয়নি। তাহলে কি এখনই সেটা বাংলাদেশের মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব? বিজ্ঞানীরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে কোনো টিকার অনুমোদন দেয়া হলে বাংলাদেশে তার আলাদা কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। অক্সফোর্ডের টিকাটি যেহেতু যুক্তরাজ্য ও এরপর ভারতে অনুমোদন পেল সেই হিসেবে বাংলাদেশেও এই টিকাটি দেয়া সম্ভব।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারের পরামর্শক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো টিকা দিতে গেলে ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তিনি জানান, এই অনুমোদনের বিষয়ে তিনটি ক্লজ রয়েছে। প্রথমত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন থাকলে বাংলাদেশে সেই টিকা ব্যবহার করা যায়। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কর্তৃপক্ষ যদি কোনো টিকার অনুমোদন দিয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশে তার জন্য আলাদা করে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। সে অনুযায়ী ফাইজার-বায়োঅ্যানটেকের টিকাও বাংলাদেশে দেয়া যাবে। তৃতীয়ত, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ ইউরোপের সাতটি দেশের কোনো একটিতে টিকা অনুমোদন পেলে সেই টিকাটিও বাংলাদেশে দেয়া যায়।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –