• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

চুরির অপবাদে ৭ম শ্রেণির ছাত্রকে নির্যাতন

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২১  

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে চুরির অপবাদে ঘরের অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ডিস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকালে। সোমবার এই বিষয়ে উলিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নির্যাতনের স্বীকার ছাত্রের মা ফিরোজা বেগম।

এ অভিযোগ দায়েরের মধ্য দিয়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। তৎপর হয় পুলিশ। অবস্থা বেগতিক দেখে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। একইসঙ্গে আসামি ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে। ঘটনাটি উলিপুর থানার অধীনে ঘটলেও আসামির বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর থানায়। পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়ারাই রঘুরায় গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম-ফিরোজা বেগম দম্পতির ছেলে ফুয়াদ আলী (১২) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফুয়াদ আলী বাড়ির পাশে মানিক মোড়ে খেলতে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সাইকেলটি ফাঁকা জায়গায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে প্রস্রাব করতে যায়।

খুঁটির সঙ্গে সাইকেলটি রাখায় ডিস লাইনের সরঞ্জামাদি চুরির অপবাদে কয়েকজন ফুয়াদকে ধরে ডিস ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যায়। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের নিধিরাম বানিয়া পাড়া গ্রামের মৃত. পরেমন্দ ব্যাপারীর পুত্র ডিস ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম।

ডিস লাইনের সরঞ্জামাদি চুরির অপবাদে নজরুল ইসলামের বাড়িতে ঘরে আটকিয়ে ফুয়াদকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে লাঠি, রড, প্লাস, হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম করে। পরে খবর পেয়ে ফুয়াদের চাচা জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন নজরুলের বাড়িতে গিয়ে ফুয়াদকে আটক অবস্থায় দেখতে পায়।

এসময় নজরুল ইসলাম ডিসের মালামাল চুরি বাবদ ক্ষতি পূরণ হিসেবে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে আলোচনা সাপেক্ষে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ফুয়াদকে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

এই বিষয়ে ফুয়াদ বলেন,আমি কোনো কিছু চুরি করিনি। পোলের মধ্যে সাইকেল রাখছি। সেখান থেকে কয়েকজন লোক নজরুল ইসলামের বাড়িতে এনে আমাকে বেঁধে পিটিয়েছে। পরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর কি হয়েছে আমার মনে নেই। 

ফুয়াদের মা ফিরোজা বেগম বলেন, আমার ছেলে ভালো ছাত্র। এলাকায় শান্ত, ভদ্র ছেলে হিসেবে সবাই চেনে। সে কোনো চুরি করতে পারে না। চুরির অপবাদ দিয়ে এভাবে কেউ কাউকে মারতে পারে না। ছেলেকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে ছেলেকে বাঁচাতে ৮ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছি। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে আজ রিলিজ নিয়ে বাসায় এনেছি। এই বিষয়ে উলিপুর থানায় আমি নিজে লিখিত অভিযোগ করেছি।

অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ডিসের লাইনের তার, মেশিন বেশ কয়েক বার চুরি হয়ে গেছে। ঘটনার দিন এক গ্রাহকের কাছে ফোনে শুনতে পাই ফুয়াদ পোলে চরে মেশিন খুলছিল। আমি গিয়ে সেখানে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। ফুয়াদের স্বজন আসলে ক্ষতি পূরণ চাই তারা ৮ হাজার টাকা দিয়ে মিটমাট করে চলে যায়। এছাড়া ফুয়াদকে কোনো মারধর করা হয়নি। এখন থানায় কোনো উদ্দেশ্যে অভিযোগ দিয়েছে তা জানি না।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –