• সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সকলকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরে ১৩৪ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য উদ্ধার বিজিবির নিরাপদ সামুদ্রিক শিল্প উদ্যোগে আইএমও-এর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের ওপর ভর করে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ রংপুরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

`‌আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া সহযোগিতা করবে`

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২২  

`‌আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া সহযোগিতা করবে'      
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হবে। আগামী বছর পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম ব্যাচ বাংলাদেশে আসবে। উৎপাদনে যাওয়ার পর এই কেন্দ্র চালাতে প্রয়োজনীয় প্রায় দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ জনবল তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হবার পর আরও ৩-৪ বছর রসাটম এটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশি সহকর্মীদের সর্বোচ্চ সহাযোগিতা প্রদান করবে। বাংলাদেশ চাইলে দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া একটি আধুনিক গবেষণা চুল্লি নির্মাণেও সহযোগিতার প্রস্তুতি রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের নির্মাণে সার্বিক সহায়তা প্রদানকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রসাটমের মহারিচালক আলেপি লিখাচেভ সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন। দুই ইউনিটের এ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের।

আলেপি লিখাচেভ বলেন, করোনা মহামারির কারনে সৃষ্ট জটিলতা সত্ত্বেও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ যাতে নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারে তার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছি। পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থা সামান্য ঝুঁকি হয়তো সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু এগুলো মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ঠিক এক বছর আগে, প্রথম পাওয়ার ইউনিটে রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। সাইটে এসে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে গত এক বছরে কি পরিমান কাজ হয়েছে। রসাটম বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তার সমস্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম ব্লকে পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টারবাইন হলে ওভারহেড ক্রেন স্থাপন করা হয় এবং এপ্রিল মাসে স্থাপিত হয় জেনারেটর স্টেটর। এছাড়া এপ্রিলে নির্ধারিত সময়ের ৮ মাস আগে, রিয়্যাক্টর বিল্ডিংয়ের নির্মাণে মূল কংক্রিটের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে থাকছে প্রথম পাওয়ার ইউনিটের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস। জুন মাসে, ইনার কন্টেনমেন্ট ডোমের কংক্রিটিং-এর কাজ সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইউনিটে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনের ঢালাই সম্পন্ন হয়। এপ্রিলের শেষে, আমরা ইঞ্জিন রুমে টারবাইন ইউনিটের ভিত্তির কংক্রিটের কাজ শেষ করেছি। জুন মাসে, ইমারজেন্সি কোর কুলিং সিস্টেমের ইনস্টলেশন সম্পন্ন হয় এবং ইনার কন্টেনমেন্টের ধাতব কাঠামো ইনস্টল করা হয়। চারটি কুলিং টাওয়ারের নির্মাণে কাজ সক্রিয়ভাবে এগিয়ে চলছে। আগামী বছর যাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম ব্যাচ আনা যায় তার জন্য সাইটে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আলেপি লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে সকল বাংলাদেশি কাজ করবেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি। সাইটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এখানে বিশেষজ্ঞদের দ্বিতীয় বা চূড়ান্ত ধাপে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম ধাপে বিশেষজ্ঞদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রেফারেন্স প্রকল্প রাশিয়ার নভোভোরোনেঝ এনপিপি-তে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেনারেল কন্ট্রাক্ট অনুসারে কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এমন ১ হাজার ১১৯ জন মূল বিশেষজ্ঞ এবং রিজার্ভ হিসেবে আরও ৩০৫ জনও তৈরি করার দায়িত্ব নিয়েছি আমরা। ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬০ জনের অধিক বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। রাশিয়ায় ইতোমধ্যে ২৪০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে যারা প্রথম ইউনিটের পরিচালনার কাজে যুক্ত থাকবেন।

আলেপি লিখাচেভ আরও বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ শেষ হওয়ার পরেও, আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা শেষ হয়ে যাবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অপারেশন চলাকালীনও রসাটমের সহযোগিতা অব্যহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করে যাবো।

রসাটম মহাপরিচালক বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হবার পর আরো ৩-৪ বছর আমরা বাংলাদেশি সহকর্মীদের সর্বোচ্চ সহাযোগিতা প্রদান করে যাব যাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সামর্থ হবেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে আলেপি লিখাচেভ বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন রূপপুর এনপিপি নির্মাণের সময় আমাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা খুবই কাজে আসবে। এছাড়াও, বাংলাদেশ একটি গবেষণা চুল্লি নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রাশিয়ার ডিজাইন করা একটি গবেষণা চুল্লির ভিত্তিতে একটি নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব পেশ করেছি।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –