• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

ভুয়া এনআইডিতে আসল টিকিট, চড়া দামে জিম্মি যাত্রীরা

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৪  

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঈদযাত্রায় ট্রেনের ৫০০ টিকিটসহ ১২ কালোবাজারিকে আটক করেছে র‍্যাব। অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এসব টিকিট কেটেছে তারা, যা পরবর্তীতে যাত্রীদের জিম্মি করে চড়া দামে বিক্রি করে। আটককৃতদের মধ্যে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের বেসরকারি ট্রেনের বিক্রয় প্রতিনিধিও রয়েছেন।

শুক্রবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর।

তিনি বলেন, সোহেল ও আরিফুল নামে দুটি চক্র ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা থেকে কালোবাজারি পরিচালনা করতো। আমরা গত রাতে অভিযান শুরু করি। এটি চলমান অভিযান ছিল। এটা দুই থেকে তিন ধাপে পরিচালনা করা হয়। ঢাকার কমলাপুর ও আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১২ জন কালোবাজারিকে আটক করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফিরোজ কবীর বলেন, এখানে দুই ধরনের চক্র। এক ধরনের চক্র অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করতো। সফট কপি পাঠিয়ে বিকাশ বা নগদে টাকা বুঝে নিতো। এমন চক্রের দুইজনকে মৌচাক মোড়ের আশপাশের এলাকা থেকে আটক করি। এদের একজনের নাম মানিক ও আরেকজন বকুল।

তিনি আরো বলেন, মানিক মূলত সোহেল নামে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানকারী আবু, রায়হান ও আনিস নামে আরো একজনের সঙ্গে কালোবাজারির ব্যবসা আসে। তাদের কাছ থেকে আগামী ১০ দিনের টিকিট পাওয়া যায়। এগুলোর হার্ডকপি ও সফট কপি রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেসের টিকিট ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, মানিক ও বকুলের মাধ্যমে আনিস ও রায়হানকে আটক করা হয়। রায়হান একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। সেখানে ভুয়া সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনেকগুলো টিকিট একসঙ্গে কেটে নেয়ার দায়িত্ব পালন করে সে। এদের বড় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে চাহিদা ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আর ঢাকাতে যারা অবস্থান করছে তারাও একই কাজ করে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রায়হান ও আনিস টিকিট পাঠাতো সোহেল ও মানিকের কাছে। আর মানিক ও বকুল ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতো। র‍্যাব যে টিকিটগুলো পেয়েছে সেগুলো আগামী ১০ দিনের অরজিনাল টিকিট।

র‍্যাব কর্মকর্তা ফিরোজ কবীর বলেন, আরিফুল ইসলাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী। তিনিও একটি চক্র চালান। বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী হলেও তার কাছ থেকে সরকারি ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। তিনি অনেকদিন ধরেই এগুলো করে আসছিলেন।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –