• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

রৌমারীতে শ্যালিকার সাথে পরকীয়া করায় দুলাভাইকে কুপিয়ে মারলো শ্যালক

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২১  

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে শ্যালক দুলা ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 
নিহত এরশাদুল হক রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউপির খেওয়ারচর গ্রামের সুরুজ্জামান ওরফে ঘুতু মিয়ার ছেলে। এ সময় মাসুদ রানা নামে আরো এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি একই গ্রামের ইন্না মিয়ার ছেলে। 

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা ও একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতকরা পলাতক রয়েছেন। 

জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার পর এরশাদ আলী ও মাসুদ রানা টাইলস এর কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকা যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নির্জন স্থানে গেলে ওঁৎ পেতে থাকা শিহাব ও রাসেল নামের দুই যুবক তাদের ওপর রামদা ও একটি ধারালো ছুরি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে এরশাদ আলী ও মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করালে এরশাদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত মাসুদ রানাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। 

নিহত এরশাদের স্ত্রী লাভলী আক্তার বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে চাচাতো ভাই শিহাবের সঙ্গে স্বামীর বিরোধ চলে আসছিল। তাদের দাবি, চাচাতো বোনের সঙ্গে স্বামীর পরকীয়া চলছে। এ বিষয়টি নিয়ে দু’জনের কথা কাটাকাটি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। এরমধ্যেই এরশাদ ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে রাস্তায় শিহাব ও রাসেল তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। স্বামী ভালো মানুষ ছিলেন। আমার ৪ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। এখন আমার সন্তানের কি হবে? ঘাতকদের ফাঁসি চাই।’ 

নিহত এরশাদুলের বাবা সুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ঝগড়া-বিবাদে জড়ায় না। সে ঢাকায় টাইলস এর কাজ করে। আমার বড় বেয়াই মিটন মিয়ার ছেলেদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা আমার ছেলেকে খুন করেছে।’ 

রৌমারী থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিহাবসহ ২ জনকে আসামি করে নিহতের বাবা রৌমারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –