• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ভাতা বন্ধ হওয়ায় দুই প্রতিবন্ধীকে নিয়ে বিপাকে কাচু শেখ

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২১  

৭০ এর কোঠা পার করেছেন কাচু শেখ। ঠিকমত চলাফেরা করতে পারেন না। তার তিন সন্তানই পৃথক হয়ে গেছে। মেঝো ছেলে তার প্রতিবন্ধী দুই সন্তান ও স্ত্রীকে ফেলে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে দিনাজপুর জেলায় আত্মগোপনে চলে গেছে। এখন  নিজের স্ত্রী, ছেলের স্ত্রী ও তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে চরম দৈন্যতায় কাটছে তাদের দিন।

এই অবস্থায় কাচু শেখের বয়স্কভাতার অর্থই ছিল তাদের শেষ সম্বল। কিন্তু সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গত ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ১০মাস ধরে ভাতা বঞ্চিত এই পরিবারটি।

খোঁজ নিয়ে কাচু শেখ জানতে পারেন তার স্মার্ট কার্ডে তাকে মৃত: দেখানো হয়েছে। এ কারণে সমাজসেবা অফিস থেকে তার নাম কাটা গেছে। ফলে চরম বিড়ম্বনার মধ্যে কাটছে তার দিন। 

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের শামসপাড়া গ্রামের মৃত: আছমত শেখের পূত্র কাচু শেখ। কৃষি কাজ ও দিনমজুরী করে সংসার প্রতিপালন করেছেন। বিয়ে দেয়ার পর ছেলেরা আলাদা হয়ে গেছে। এরমধ্যে মেঝো ছেলের বিয়ের পর তার সংসারে দুটি প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম হয়। এই প্রতিবন্ধী সন্তান ও স্ত্রীকে পিতা কাচু শেখের ঘাড়ে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে উধাও হয়ে যায় মেঝো সন্তান। পরে লোকমুখে শুনেছেন ছেলে দিনাজপুরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। এখন বৃদ্ধ কাচু শেখের সংসারে ৫জন সদস্য। তাদের মধ্যে দুইজনই প্রতিবন্ধী। তারাও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে না। ফলে চরম অভাব আর অনটনের মধ্যে কাটছে তাদের দিন। এই অবস্থায় বয়স্কভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। এই বয়সে উপজেলা সমাজসেবা ও উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘুরতে ঘুরতে তিনি হয়রাণ হয়ে গেছেন। শেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গত রবিবার (২০জুন) নির্বাচন অফিস থেকে স্মার্ট কার্ডে আবারো নিজেকে জীবিত বলে ডাটাবেজে তথ্য সংযোজন করার সুযোগ পেয়েছেন। এরপর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবারো যোগাযোগ করেছেন কিন্তু কাংখিত ভাতা পাচ্ছেন না। এই বৃদ্ধের দাবী তার বয়স্ক ভাতা এক বছরের বকেযাসহ পরিশোধ করা হোক।

কাচু শেখের স্ত্রী অজিরন বেগম জানান, প্রথমে নাতির প্রতিবন্ধী ভাতা বন্ধ হয়ে গেল। এখন স্বামীরও ভাতা বন্ধ। বাবারে টেকা পইসা নাই। এ্যালা খায়া না খায়া আছি।

বিষয়টি নিয়ে চিলমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার লুৎফর রহমান জানান, ভোটার ডাটাবেজে তাকে মৃত: দেখানোয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। ভাতাভোগীদের নাম অনলাইনে হালনাগাদ করতে গিয়ে এন্ট্রি না নেয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওনাকে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এখন উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইকবাল হোসেন জানান, তথ্য সংগ্রহকারী ও ইউপি মেম্বারদের তথ্য ভুলের কারণে জীবিত ব্যক্তি মৃত: হয়ে গেছে। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে সেটি সংশোধন করা হয়।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –