• বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১১ ১৪২৮

  • || ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
আসুন জাতিসংঘকে আমাদের আশার বাতিঘর বানাই: প্রধানমন্ত্রী প্রত্যর্পণ আইনে সংশোধন, দুর্নীতিবাজদের দেশে ফিরতেই হবে পাঁচ বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে কোরিয়া ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক রোল মডেল- শ্রিংলা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় সোনালি সম্ভাবনা দেখছেন জেরেমি ব্রুয়ার

ফুলবাড়ীতে নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে সংবর্ধনা পেলেন ‘ফার্স্ট গার্ল’ 

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২১  

প্রাথমিক থেকেই লেখাপড়ায় বেশ এগিয়ে মিম। মাধ্যমিকেও তাকে পেছনে ফেলতে পারেনি। সব ক্লাসেই প্রথম। অংশ নেবেন এবারের এসএসসি পরীক্ষায়। তবে পরীক্ষার আগেই বিয়ে ঠিক হয় ক্লাসের এ ফার্স্ট গার্লের। কিন্তু বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি তিনি। নিজের বিয়ে নিজেই ঠেকিয়ে দিলেন। বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে পেলেন সংবর্ধনা।

মেধাবী এ শিক্ষার্থীর পুরো নাম মোনালিশা আক্তার মিম। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই গ্রামের অসহায় মফিজুল হকের মেয়ে। বড়লই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি হলরুমে মিমকে সংবর্ধনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। সংবর্ধনা হিসেবে তার হাতে ক্রেস্ট, স্মারক ও ফুল তুলে দেন ফুলবাড়ীর ইউএনও সুমন দাস।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালামের পরিচালনায় সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, ফুলবাড়ী থানার ওসি রাজীব কুমার রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই রকেট, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবর রহমান, প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার প্রমুখ।

জানা গেছে, টানাপোড়েনের সংসার। তাই ভালো পরিবারের ছেলে পেয়ে হাতছাড় করেননি মিমের বাবা-মা। একপর্যায়ে মেয়েকে না জানিয়েই মিমের বিয়ের দিন ধার্য করেন ২৫ সেপ্টেম্বর। বিষয়টি জানতে পেরে বাবা-মা বুঝিয়ে নিজের বিয়ে ভেঙে দেন মিম। নিজের সাহসিকতা আর মেধার সম্মান জানিয়ে মিমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মিমের মা মুক্তা বেগম বলেন, আমাদের অভাবের সংসার। মেয়ে বড় হচ্ছে দেখে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। একটি ভালো পরিবারের ছেলের সন্ধান পেয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করি। কিন্তু বিয়েতে রাজি হয়নি মেয়ে। বিয়ে করবে না বলে ভেঙে দেয়। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে বলেও জানায় মেয়েটি। তাই আমরাও আর বাধা দেইনি।

বড়লই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিচুর রহমান আঙুর বলেন, মিম আমার স্কুলের ফার্স্ট গার্ল। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্তই প্রথম। কোনোদিন ক্লাসও ফাঁকি দেয়নি।

তিনি আরো বলেন, নিজের বিয়ে ঠিক হয়েছে বলে একদিন আমাকে এসে বলে মিম। কিন্তু বিয়েতে সে রাজি নয়। পরে তার ইচ্ছায় আমরা তার বিয়ে বন্ধে সহায়তা করি।

ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আব্দুল হাই রকেট বলেন, নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করে একটি সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মিম। আমরা তার সাফল্য কামনা করছি। তার সম্মানে সংবর্ধনা দেয় উপজেলা প্রশাসন।

মিমের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার জন্য প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার।

মেধাবী শিক্ষার্থী মোনালিশা আক্তার মিম বলেন, ছোট থেকেই বাল্যবিয়ের বিভিন্ন কুফল সম্পর্কে জেনে আসছি। বিভিন্ন সেমিনার, বাল্যবিয়ে নিয়ে তর্কবিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এর কুফল জেনে সচেতন হই। আর নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় সংবর্ধনা পেয়ে আমি গর্বিত।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে মিম বলেন, ছোট থেকেই একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে এ স্বপ্নপূরণ সম্ভব। আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –