ব্রেকিং:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বুয়েটের বহিষ্কৃত ২০  শিক্ষার্থীর মৃত্যুদণ্ড ৫ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছেন আদালত
  • বৃহস্পতিবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৮

  • || ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
পঞ্চগড়ে একসাথে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন দরিদ্র মা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে জোর দুই পররাষ্ট্র সচিবের জলঢাকায় ছোট বোনকে বাঁচাতে গিয়ে বড় বোনের মৃত্যু কোভিড চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার: প্রধানমন্ত্রী বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় ২০ মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৫

দিনে অটোরিকশা চালায়, ভোর রাতে ভাপা পিঠা বানায় এনামুল

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২১  

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল চত্ত্বর। ঘড়িতে তখন রাত ৪টা বেজে ৩০ মিনিট। চারিদিকে নিস্তব্ধতা। এমন সময় অটোরিকশায় করে টেবিল, খড়ি, চুলাসহ ভাপা পিঠা বানানোর সামগ্রী নিয়ে হাজির মো. এনামুল হক (৩৫)। উদ্দেশ্য, ভোরের আলো ফুটতেই ভাপা পিঠা বিক্রি করা। সারাদিন অটোরিকশা চালানো এনামুল হকের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

গভীর রাতে দোকান সাজানোর সময়ে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। তিনি জানান, সারাদিন অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলছিলো না। তাই শীতের মৌসুমে সন্ধ্যায় এবং ভোরে ভাপা পিঠা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছি। ভোরে দোকান বসানোর জন্য গভীর রাত থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয় বলেও জানান তিনি।

এনামুল হক (৩৫) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর হাসপাতাল পাড়ার বাসীন্দা। ৩ ছেলে, স্ত্রী ও বাবা-মা'কে নিয়ে ৭ জনের পরিবার তার। তিনি জানালেন, টাকার অভাবে কোন সন্তানকে লেখাপড়া করাতে পারিনি। পরিবারের সবার দ্বায়িত্ব একাই সামলাতে হয়।
বেসরকারি সংস্থা থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ করে অটোরিকশা কিনেছেন এনামুল হক।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ঋণের জন্য প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। আবার সংসার চালাতে হয়। এত টাকা একটা রিকশা থেকে আসে না। তাই রাতের ঘুমের চিন্তা না করে টাকার পেছনে ছুটতে হয়।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল চত্ত্বরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এবং ভোরের আলো ফুটতেই দেখা মেলে এনামুল হককে। প্রতি পিচ ভাপা পিঠা ১০ টাকা দরে সকালে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার এবং সন্ধ্যায় প্রায় একই রকম বিক্রি হয় বলে জানালেন তিনি। তবে অন্যান্য সময়ে এমন সুযোগ না থাকায় কষ্টকর জীনবজাপনের অভিজ্ঞতাও জানাতে ভুললেন না তিনি।

দিনের আলো ফুটতেই গরম ভাপার স্বাদ পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সুজন মোহন্ত বলেন, এত ভোরে ভাপা পিঠা কোথাও পাওয়া যায় না। এখানকার ভাপা পিঠা আমাদের নির্ঘুম রাতের ক্লান্তি দূর করে।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –