• মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
পদ্মাসেতু জাতীয় সম্পদ, বিরোধিতাকারীরা জাতির শত্রু: হাইকোর্ট নিজের ভাগ্য নয়, জনগণের ভাগ্য বদলই একমাত্র লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ যুক্তরাজ্যকে এক লাখ রোহিঙ্গা নিতে অনুরোধ বাংলাদেশের বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি পদ্মার গহীনে নিমজ্জিত: ওবায়দুল কাদের

রাজারহাটে পদ্ম ফুল দেখতে কলেজশিক্ষকের বাড়িতে ভিড়

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২২  

পুকুর, বিল বা জলাশয়ে একসময় বিভিন্ন প্রকার পদ্ম ফুলের দেখা মিললেও নানা কারণে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। শুধু প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও মনের প্রশান্তির জন্য বাড়ির উঠানে ছোট জলাশয়ে লাল পদ্ম ফুলের বাগান করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কলেজশিক্ষক জাকির হোসেন। ৮টি চারা দিয়ে শুরু করা তার বাগান এখন ভরে গেছে পদ্ম ফুলে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শখ থেকে বাড়ির সামনে এক কাঠা সবজি চাষের জমিকে করেছেন পদ্ম ফুলের বাগান।

সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পদ্ম ফুল আমার দারুণ ভালো লাগে। মানুষ বলে গোবরে পদ্ম ফোটে। আমি ভাবলাম এই প্রবাদবাক্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে আমার জলাশয়ে পদ্ম ফুলের বাগান কেন করা যাবে না। এর প্রেক্ষিতে আমার ক্ষুদ্র উদ্যোগ সফল হয়েছে। আমি একটি বিল থেকে প্রথমে ৮টি চারা সংগ্রহ করি। ওই ৮টি চারা থেকে এখন সম্পন্ন জলাশয়টি ভরে গেছে আমার এবং অনেক ফুল আসছে।

গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বিলঝিলে প্রকৃতিগতভাবে জন্ম নিত লাল-সাদা ও বিভিন্ন রঙের পদ্ম ফুলের। এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। পানিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, বিল ও জলাশয়গুলো ভরাট করাসহ নানা প্রতিকূলতায় প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে পদ্ম ফুল। পদ্ম (Nelumbo nucifera) প্রতিবেশী দেশ ভারতের জাতীয় ফুল। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে এর রয়েছে নানা ব্যবহার। পদ্মকে বাংলায় নানা নামে ডাকা হয় কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কৈরব, কুবল, অম্বুজ, কুবলয়, শতদলসহ আরও অনেক। ইংরেজিতে বলা হয় লোটাস।

পদ্ম কন্দজাতীয় ভাসমান জলজ উদ্ভিদ। মূলত শরতকালের ফুল পদ্ম। কিন্তু মধ্যবর্ষায়ও এটি ফুটে ওঠে কখনো, যা থাকে হেমন্ত পর্যন্ত। পদ্ম ফুলের পাতা গোলাকৃতির ও বড়। এর পাতা পানিতে লেপ্টে থাকে, কোনোটা থাকে উঁচু হয়ে। ফুলের রং সাদা ও গোলাপির মিশ্রণ, ফুল সুগন্ধি। জলজ ফুলের রানি পদ্ম ফুল দেখতে প্রতিদিন রাজারহাট আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেনের বাড়িতে ভিড় করছে মানুষ।

দর্শনার্থী খন্দকার আরিফ হোসেন বলেন, সাধারণত বিলে-ঝিলে জুলাই-আগস্ট মাসের দিকে পদ্ম ফোটে। অথচ মে মাসেই পদ্ম ফুলে ভরে গেছে জাকির ভাইয়ের জলাশয়। দর্শনার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অসাধারণ পদ্ম ফুলের বাগান আমার খুব ভালো লাগে তাই মাঝেমধ্যে দেখতে আসি।

কলেজশিক্ষক ও স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বিল-জলাশয়ের পদ্ম ফুল জাকির হোসেনের বাড়িতে শোভা পাচ্ছে। এটা অনেকটা বিস্ময়কর। পদ্ম সাধারণত দুই প্রকারের হয়ে থাকে— শ্বেত পদ্ম ও লাল পদ্ম। এটি লাল পদ্ম। পদ্ম শুধু শোভাবর্ধনকারী ফুল নয়, এর আছে অনেক গুণ। পদ্ম ফুলের গাছের ডাঁটা সবজি হিসেবে, ফল খাদ্য হিসেবে ও ফুল সৌন্দর্যবর্ধন হিসেবে সমাদৃত। ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের পদ্মবাগান করা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, শিক্ষক জাকির হোসেনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের সব ডোবা বা পুকুরে পদ্ম ফুল চাষে এগিয়ে এলে হারিয়ে যেতে বসা এ ফুল ও পাতা শোভাবর্ধনের পাশাপাশি মানুষের নানা উপকারে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –