• সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সকলকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরে ১৩৪ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য উদ্ধার বিজিবির নিরাপদ সামুদ্রিক শিল্প উদ্যোগে আইএমও-এর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের ওপর ভর করে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ রংপুরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

‘হালাল খাওয়ার জন্য অটোরিকশা চালাই’

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২২  

‘হালাল খাওয়ার জন্য অটোরিকশা চালাই’                         
একজন নারী হয়ে পুরুষের মতো অটোরিকশা চালিয়ে বাবা-মা ও নিজ সন্তানদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন কুড়িগ্রামের সাহসী চম্পা আক্তার আফসানা মীম। হালাল পথে উপার্জনের জন্য তিনি অটোরিকশা নিয়ে ছুটছেন এক প্রান্তরে থেকে অন্য প্রান্তরে।

প্রতিদিন তাকে অটোরিকশা নিয়ে ছুটতে হয় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভরুঙ্গামারী, কুমরপুর, কাশিপুর কলেজ মোড়, খড়িবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে।  

অটোরিকশা চালিয়ে দৈনিক যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে অটোরিকশা চার্জের বিদ্যুৎ বিল, ঋণে কেনা অটোরিকশার কিস্তি পরিশোধ ও বাবা-মা, সন্তানদের ভরণপোষণের খরচ চালাতে হচ্ছে তাকে। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সারাদিন অটোরিকশা চালিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা উপার্জন হয় তার।

অটোরিকশা চালাতে তার কোনো সমস্যা না হওয়ায় জীবন সংগ্রামের উপার্জনে অটোরিকশাই এখন চম্পা আক্তার আফসানা মীমের ভরসা। নিজে একজন গার্মেন্টসকর্মী হওয়ায় চম্পা আক্তার স্বপ্ন দেখতেন গার্মেন্টেসের মালিক হওয়ার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় অটোরিকশাকেই উপার্জনের পাথেয় করেন তিনি।

জীবন সংগ্রামী চম্পা আক্তার আফসানা মীমের জন্ম অভাবী পরিবারে। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির আটিয়াবাড়ী মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা আব্দুল জলিল একজন রিকশা চালক।

চম্পা আক্তার আফসানা মীম বলেন, আমার জীবন সুখ-সমৃদ্ধতা ছিল। স্বামী ফজলুর রহমান, ছেলে আব্দুর রহমান জিয়ন, শিশুকন্যা মেহেদী আক্তার নুসরাতকে নিয়ে আমার জীবন সংসার সুখের ছিল। ঢাকায় আমার গার্মেন্টেস শ্রমিকের উপার্জন ও স্বামীর রিকশা চালানোর উপার্জনে আমাদের সুখের সংসার চলতো। এরমধ্যে গত তিন বছর আগে স্বামী ফজলুর রহমান ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে আমার সুখের সংসারে নেমে আসে দুঃখ। ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমি আর ঢাকায় থাকতে পারিনি। ছেলে মেয়েদের নিয়ে চলে আসি বাবার বাড়িতে। ঢাকা থেকে বাবার বাড়িতে আসার সময় আটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেই। পরবর্তীতে বাবার সহযোগিতায় এনজিওর ঋণ নিয়ে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে একটি অটোরিকশা কিনি। সেই থেকে ‘হালাল পথে খাওয়ার জন্য অটো রিকশা চালাই’। অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন আমার আয় হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। 

এই উর্পাজনের টাকায় অটোরিকশা চার্জের বিদ্যুৎ বিল, ঋণে কেনা অটোরিকশার কিস্তি পরিশোধ ও বাবা-মা, সন্তানসহ ৭ সদস্যের ভরণপোষণের খরচ চালাতে হচ্ছে। এরমধ্যে ছেলে আব্দুর রহমান জিয়নকে স্থানীয় এক হাফিজিয়া মাদরাসায় ও শিশুকন্যা মেহেদী আক্তার নুসরাতকে ব্র্যাক স্কুলে ভর্তি করেছি।

চম্পা আক্তার আফসানা মীম আরো জানান, ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে মনে স্বপ্ন ছিল একজন গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে একটি মিনি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে অসহায় ছেলে মেয়েদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

স্থানীয়ভাবে রেশনকার্ড, বিধবাভাতাসহ তার ভাগ্যে সরকারি কোনো সুবিধা আসেনি বলেও জানান চম্পা আক্তার আফসানা মীম। তার এই জীবন সংগ্রামে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা পেলে তার সংগ্রামী এই জীবনের দুঃখ একটু হলেও লাঘব হতো বলে জানান এই সংগ্রামী নারী।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –