• সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সকলকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরে ১৩৪ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য উদ্ধার বিজিবির নিরাপদ সামুদ্রিক শিল্প উদ্যোগে আইএমও-এর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের ওপর ভর করে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ রংপুরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামের প্রথম বালুমহাল হচ্ছে তিস্তায়  

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২২  

কুড়িগ্রামের প্রথম বালুমহাল হচ্ছে তিস্তায়                         
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীতে ‘কালীরহাট বালুমহাল’ নামে জেলার প্রথম বালুমহাল ঘোষণা করে সম্প্রতি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বালুমহালটি এখনও ইজারা দেওয়া হয়নি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নিশাত তামান্না এবং রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে ১০ দশমিক ৮৫ একর এলাকা জুড়ে এ বালুমহালের বিস্তৃতি। জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর স্বাক্ষরিত বালুমহাল সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি ও চতুরা মৌজার ৩৯ টি দাগভুক্ত এলাকার প্রায় পৌনে ১১ একর জায়গা নিয়ে এ বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত এ বালুমহালের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালীরহাট বালুমহাল’।

প্রসঙ্গত, এর আগে কুড়িগ্রামে কোনও বৈধ বালুমহাল ছিল না। বালুমহাল না থাকলেও বছর জুড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করেন বালু ব্যবসায়ীরা। ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায়’ নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট নদী ভাঙনে প্রতিবছর শত শত পরিবার বাস্তুহারা ও ভূমিহীন হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগই পুনর্বাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন।

জেলায় প্রথমবারের মতো বালুমহাল ঘোষণাকে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল। তিনি বলেন, ‘একটি জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য বালু একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। কিন্তু কুড়িগ্রামে কোনও বৈধ বালুমহাল না থাকলেও ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ জেলার নদ-নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হয়। এর ফলে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা নদীভাঙন সহ নানা প্রতিকূলতার শিকার হন। আবার সরকারও বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে সরকারি ভাবে বালুমহাল ঘোষণা অবশ্যই ইতিবাচক।’

বালুমহালের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এই পরিবেশকর্মী বলেন, ‘বালুমহাল ইজারা ও বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন সঠিকভাবে প্রতিপালনে নজর দিতে হবে। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইজারাদাররা নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করে থাকেন। ফলে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের বাস্তুভিটা ও আবাদি জমি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বালু উত্তোলনে আইনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হলে বালুমহাল ঘোষণার সুফল পাওয়া যাবে না।’

‘বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের কোনও ক্ষতি হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে’- যোগ করেন এই পরিবেশ কর্মী।

জানতে চাইলে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনিম বলেন, ‘উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর কালীরহাট বালুমহাল নামে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। তবে এখনও বালুমহালের ইজারা হয়নি। জেলা প্রশাসন ইজারার উদ্যোগ নেবে।’

বালুমহাল ইজারার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘ অল্প কিছুদিন আগে বালুমহালের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। ইজারা প্রদানের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –