• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

ধরলা গিলছে মেলেটারির চর

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৪  

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বর্ষার শুরু হতে না হতেই আগ্রাসী রূপধারণ করেছে ধরলা। ধরলার ভাঙনে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের মেলেটারির চর ছোট হয়ে আসছে। অব্যাহত ভাঙনে রাস্তা, ৩০টি বসতবাড়ি, শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ২৭ বিঘা ভুট্টা ক্ষেত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ধরলা তীরবর্তী ২২টি পরিবার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারাও অল্প সময়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে। ফলে বাড়ছে পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের নদী তীরবর্তী মানুষের আর্তনাদ। 

সরেজমিনে ঐ চরে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলার তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ছাড়াও পাশ্ববর্তী বড়বাড়ি হাটসহ স্থানীয় হাটবাজার ও বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ধরলায় বিলীন হয়েছে। এখন তারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নৌকায় যাতায়াত করছে।

ঐ এলাকার ভাঙনের শিকার সিরাজুল ইসলাম ও মজিবর রহমান বলেন, অব্যাহত ভাঙনে আমরা আজ সর্বস্বান্ত। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। 

মোস্তফা সরকার ও আবুল হোসেন বলেন, আমাদের এখানকার শত শত একর আবাদি জমি ধরলার পেটে চলে গেছে। যাতায়াতের রাস্তাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন জমির আইল দিয়ে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। 

ঐ গ্ৰামের পূর্ব পাড়ার বৃদ্ধ মনির উদ্দিন বলেন, ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় আজ আমরা নিঃস্ব। ৫০ বিঘা ফসলি জমির কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমার জমিতে কাজ করে অনেকেই সংসার চালাতো। এখন সব হারিয়ে আমি এই বৃদ্ধ বয়সে অন্যের জমিতে কাজ করে খাই। বাড়িভিটা টুকু ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। সেটাও ধরলা কেড়ে নিতে চাচ্ছে। এটুকু গেলে থাকবো কোথায় বলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন তিনি।

আরেক বৃদ্ধ নূর মোহাম্মদ বলেন, সাত বিঘা ফসলি জমিতে চাষ করে সংসার চালাতাম। ভাঙনে সব জমি নদীর পেটে চলে গেছে। আজ আমি নিঃস্ব। এখন দিনমজুর।

ঐ গ্ৰামের দক্ষিণ পাড়ার ভিটেমাটি হারা মহির আলী, হযরত আলী, কলিম উদ্দিন, ফজলু মিয়া, নূর হোসেন ও মোহর আলী বলেন, ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিলে আজ আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারাতে হতো না। আসলে আমাদের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। 

ধরলার ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা হয় বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টুর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাড়িঘর ভাঙনের ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই এলাকার মানুষ। এছাড়াও ফসলি জমি, বাগান ও ক্ষেত খামার নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনে এখন পর্যন্ত অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শতাধিক পরিবার। ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। আমি সংসদ সদস্য (এমপি), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে এলাকাটি রক্ষার অনুরোধ জানাই।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ঐ এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন। ভাঙনকবলিত এলাকাটি চরাঞ্চল হওয়ায় আমরা সেখানকার ভাঙনরোধে আপাতত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। কারণ চরাঞ্চলের ভাঙনরোধে কাজ করার কোনো নির্দেশনা নেই। যদি নির্দেশনা পাই তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, নদী ভাঙনরোধে কাজ করার মত সক্ষমতা উপজেলা প্রশাসনের নেই। তবে ঐ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাবো। পাশাপাশি যারা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –