• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

কুড়িগ্রামে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২৪  

কুড়িগ্রামে বুধবার ভোররাত থেকে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছিল। ফলে এসব নদ-নদীর অববাহিকায় সাময়িক ২য় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 

সরকারি হিসেবে পানিবন্দি মানুষ কম হলেও এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ফলে গতকাল থেকে ঘরের ভেতর মাঁচা পেতে নদের চরের মানুষজন রয়েছেন। অনেকেই রান্না করে খেতে কষ্টে পড়েছেন।বাড়ির চারপাশে শুধুই পানি আর পানি এসব এলাকায়। জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বালাডোবা গ্রামের আসমত ও নুরবানু জানান, গত কয়দিন থাকি হামরা পানিত আটকি  আছি।কেউ দেখতে আসেনা। ছেলে মেয়েকে উঁচু জায়গায় রেখে গরু ছাগল পাহারা দিচ্ছি। ওই ইউনিয়নের ফকিরের চর গ্রামের রমিচন জানান, ঘরে পানি। রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। গরুকেও কিছু খাইতে দিতে পারছি না।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নে ১৫শ' মানুষের বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।
বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ শেখ জানান, আমার ওয়ার্ডে দেড়শ ঘরে পানি উঠেছে। এছাড়াও এই ইউনিয়নে প্রায় ৮শ' পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।এভাবে জেলার সদর,উলিপুর,রাজারহাট,চিলমারীসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব মানুষ পানিবন্দি।
বুধবার সন্ধ্যে ৬টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে,চিলমারী পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্রের হাতিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলা নদীর অন্য পয়েন্টে দুধকুমারের পাটেশ্বরী পয়েন্টে এবং তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ জানান, বন্যা কবলিত কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, উলিপুর ও নাগেশ্বরীতে ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায়  এক হাজার ২শত পরিবারকে ১০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য খাবার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে ১০০ জনের মাঝে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ চলছে। চিলমারী উপজেলার রমনা, নয়ারহাট ও চিলমারী প্রত্যেকটি পয়েন্টে ১০ কেজি হারে মোট ৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণ হয়, যাদের উপকারভোগীর সংখ্যা ৬শ জন। এদিকে,সদর উপজেলার বিকেলে চরভগবতীপুর, খেয়ার আলগা, কালীর আলগা, পোরার চরে ১০ কেজি করে চাল,ডাল, তেলসহ ১৫০ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –