• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৮ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ওয়াদা করুন, নৌকায় ভোট দেবেন: প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ সাত জুয়াড়ি গ্রেফতার এসএসসি-সমমানের পরীক্ষা শুরু ৩০ এপ্রিল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করবে সরকার নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজুল, সম্পাদক অক্ষয়

আল্লাহকে ভয় করলেই মুক্তি মিলবে পরকালে

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩  

আল্লাহকে ভয় করলেই মুক্তি মিলবে পরকালে                            
মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর সর্বশেষ আহবান ‘তোমরা ভয় কর সেই দিনকে, যেদিন তোমরা সকলে ফিরে যাবে আল্লাহর কাছে। অতঃপর প্রত্যেকে পাবে তার স্ব স্ব কর্মফল। আর তারা কেউ সেদিন অত্যাচারিত হবে না (বাক্বারাহ ২৮১)। এটাই ছিল পবিত্র কোরআনের সর্বশেষ আয়াত, যা রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুর ৭ বা ২১দিন পূর্বে নাজিল হয়েছিল।

যেসব বিশ্বাসের ওপর ইসলামের ভিত্তি, তন্মধ্যে তাওহিদ ও রিসালাতের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো পরকালে বিশ্বাস।  পরকালে বিশ্বাসের অর্থ হলো মৃত্যুর পর মানুষ এমন একটি চিরস্থায়ী জীবনে পদার্পণ করবে যেখানে দুনিয়ায় কৃত সব কাজের হিসাব দিতে হবে। সেই চিরস্থায়ী জীবনকে পরকাল বলা হয়।

আল্লাহকে কেন ভয় করতে হবে? এ ভয়ের ধরন ও তাৎপর্য কী? তাফসিরকারগণ কেয়ামতের দিন আল্লাহকে ভয় করার ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, ভয় হবে দু’ধরণের-

প্রথম ভয়
দুনিয়ার ওই সব ব্যক্তির ভয় যারা আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধান যথাযথ পালন না করতে পারে নাই। দুনিয়ার জীবনে তাদের কৃত অপরাধের কারণে তাদের অন্তরে জাগ্রত আল্লাহ তাআলার কঠিন শাস্তির ভয়। পবিত্র কোরআনের বহুস্থানে এই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে যে, পরকালে মানুষকে তার ভালো ও নেক কাজের পুরস্কার এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি দেয়া হবে।

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ নেক কাজ করবে পরকালে সে তা দেখতে পাবে এবং অণু পরিমাণ গুনাহর কাজ করবে সেও তা দেখতে পাবে। (সূরা: যিলযাল, আয়াত: ৭)।

দ্বিতীয় ভয়
দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলা ইবাদত-বন্দেগি ও তার বিধি-বিধান পালন করা সত্ত্বেও আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা, তার অনন্ত অসীম ক্ষমতা ও কুদরাতের কারণে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবে যে ভয়ের উদ্রেক হয়; সেই ভয়। আল্লামা আলুসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমার ভয়; বান্দার হৃদয়ে তা হবে পরিপূর্ণ ভাবে। আর যারা তার সর্বাধিক আপন, তাদের ভয় অত্যন্ত বেশি।

হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরকালে আল্লাহর ভয়ের দৃষ্টান্ত এভাবে তুলে ধরেছেন, ‘কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যদি তার আইনজীবী এ মর্মে নিশ্চিত করেন যে, এ মামলায় কোনো শাস্তি এবং ভয়ের কারণ নেই; তারপরও অভিযুক্ত ব্যক্তির মনে স্বভাবগতভাবে অবশ্যই ভয় থাকবে যে, কি জানি কি হয়।’

উল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদেরকে পরকালে ক্ষমা করবেন শুধুমাত্র তাকে ভয় করার কারণে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘স্বাদ বিনষ্টকারী জিনিস অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ কর’।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –