• রোববার ১৯ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৫

চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নামাজের চর মহাবিদ্যালয়

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৩  

 
এমপিওভুক্ত যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউপির নামাজের চর মহাবিদ্যালয়টি। মহাবিদ্যালয়টি চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়ানোর দৃপ্ত শপথে ২০১১ সালে স্থাপিত হয়। এখানে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল বেষ্টিত এলাকাটির আয়তন ১০১ দশমিক ১৩ বর্গ কিলোমিটার। ১ একর ২৬ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই মহাবিদ্যালয়টি। ২০২১ সালে ১৯ অক্টোবর শর্ত পূরণসহ সব কাগজপত্র দিয়ে এমপিওভুক্ত আবেদন করা হয়। 

পাশাপাশি ২০২২ সালে সব শর্ত পূরণসহ আবারো এমপিওভুক্ত করণের জন্যে আপিল আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার একযুগেও কলেজটি এখনো এমপিভুক্ত করা হয়নি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউপির নামাজের চর ইউনিয়নটিতে ৩০ হাজারের মানুষের বসবাস। আর তাদের সন্তানদের পড়াশুনা করার জন্য একটি মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নামাজের চর মহাবিদ্যালয়টি।

মহাবিদ্যালয়টি চলাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার জন্য পাঠদাদের অনুমতি পেয়েছিল ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল। ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম স্বীকৃতি পেয়ে সুনামের সঙ্গে মহাবিদ্যালয়টি চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে আত্মনিয়োগ করে। 

বর্তমানে মহাবিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছে ১৪ জন, কর্মচারী রয়েছেন ৭ জন। ভর্তির রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৮ সালে ১৫০ জন শিক্ষার্থী, ২০১৯ সালে ১৯৮ জন, ২০২০ সালে ৩১৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ২৪৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। 

মহাবিদ্যালয়টিতে একটি একাডেমিক বহুতল ভবন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে বিশেষ বরাদ্দে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীসহ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

মহাবিদ্যালয়টির অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী- জাকিয়াতারা, আরিফা, মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের এই মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত আমাদের শিক্ষাদান করাচ্ছেন। নদী ও দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী দিনমজুর পরিবারে জন্ম আমাদের। আমরা নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান হওয়ায় এই মহাবিদ্যারয়ে আমাদের কোনো ভর্তি ফি নেয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে পরীক্ষার ফি ফ্রি করে দেন। আমরা এই মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানবিক ব্যবহার ও সুষ্ঠু পাঠদানে শিক্ষায় আলোর মুখ দেখছি।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন,  মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা মহাবিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এটা দুঃখজনক। এ অবস্থায় নামাজের চর মহাবিদ্যালয়ের দ্রুত সময়ে এমপিওভুক্তকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা হলে চরাঞ্চলে শিক্ষার আলোর উপকার ছড়িয়ে পড়বে দেশসহ সারা বিশ্বে।

নামাজের চর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবু তালেব বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ভাতা ছাড়াই এক যুগ ধরে সুনামের সহিত বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকাটি ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চর হলেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে গিয়ে অনুনয় বিনয় করে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ামুখী করার জন্য কাজ করছি। শিক্ষার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষায় জ্ঞান ও সনদ অর্জনের করা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। 

আধ্যক্ষ আরো বলেন, মহাবিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করণের সব শর্ত পূরণ হলেও বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছি। এ অবস্থায় নামাজের চর মহাবিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করণে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এমপিওভুক্ত করণের জোর দাবি জানাই।

উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, নিয়ম ও শর্তপূরণ হলেই এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রত্যায়ন দেওয়া হয়। এই নামাজের চর মহাবিদ্যালয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে মহাবিদ্যারয়টি এমপিও’র আওতায় আসার সব শর্তপূরণ করেছে। তাই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে। 

কুড়িগ্রাম- ৩ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মতিন জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চরাঞ্চলে সাহেবের আলগা ইউনিয়ন জুড়ে শিক্ষার আলো ছড়ানোর একমাত্র বৃহৎ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামাজের চর মহাবিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। এবার বিশেষ কোটায় মহাবিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে সুপারিশ করবেন বলে তিনি জানান।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –