• বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩১

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪৫

কোরআন ও হাদিসে হজের গুরুত্ব

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৪  

ইসলাম ধর্মের ৫ স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো হজ। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা হজের জন্য ৩টি মাসকে নির্ধারণ করেছেন, তা হলো শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। এ জন্য এ মাসগুলোকে ‘আশহুরুল হজ’ তথা ‘হজের মাসসমূহ’ বলা হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি- (১) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। (২) সালাত কায়েম করা। (৩) জাকাত আদায় করা। (৪) রমজানের রোজা রাখা। (৫) হজ সম্পাদন করা’ (বুখারি : ৮)

ইব্রাহিম (আ.) যখন কাবা শরিফ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেন তখন আল্লাহ তাআলা তাকে হজের প্রতি মানুষকে আহ্বানের আদেশ দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করে দাও! তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে চড়ে। তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে’। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে ইব্রাহিম (আ.) আবু কুবাইস পাহাড়ে উঠে দাঁড়ান। ঘোষণা দেন হজের, আল্লাহর ঘর জিয়ারতের। আর আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে সেই বার্তা পৌঁছে দেন আগত-অনাগত প্রতিটি মানুষের কাছে।

পরবর্তীকালে ইসলামের আগমনের পর নবম হিজরি সালে মুসলমানদের ওপর হজ ফরজ করা হয়। যেমন কোরআনে এসেছে-আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহর জন্য হজ করা। আর যে প্রত্যাখ্যান করে (সে যেন জেনে রাখে) আল্লাহ বিশ্বজগৎ থেকে অমুখাপেক্ষী’। (সূরা: আল ইমরান, আয়াত: ৯৭)

এ আয়াতের মাধ্যমে হজ ফরজ হওয়ার বিষয়টি সুপ্রমাণিত। এরপর থেকে মুসলিম উম্মাহ ইহরামের সাদা কাপড় গায়ে কাবার সামনে হাজির হয়ে ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ ও সাঈ করা, উকুফে আরাফাহ ও কোরবানি করা ইত্যাদি সম্পাদনের মাধ্যমে হজ সম্পন্ন করে। সাদা-কালো, উঁচু-নিচুর ব্যবধান ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাবাকে সামনে রেখে সেজদা অবনত হয়-বাইতুল্লাহর শীতল ছায়ায় ২ হাত তুলে ধরে আকাশ পানে। এভাবে হজ হয়ে ওঠে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন আর বাইতুল্লাহ তাদের ঐক্যের প্রতীক। এটা হজের অন্যতম মাহাত্ম্য।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তার একাধিক বাণীতে হজের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন। হজের ফজিলত উল্লেখপূর্বক মুসলমানদের মাঝে হজের গুরুত্ব জাগিয়ে তুলেছেন। করেছেন উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত। যেমন হাদিসে এসেছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহরই (সন্তুষ্টির) জন্য হজ করেছে এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও কাজকর্ম করেনি, সে হজ থেকে এমনভাবে (নিষ্পাপ হয়ে) বাড়ি ফিরবে, যেন সেদিনই তার মা তাকে প্রসব করেছে’। (বুখারি: ১৫২১)

অপর এক হাদিসে তিনি হজকে সর্বোত্তম আমলের মধ্যে গণ্য করেছেন। যেমন-একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোন আমল? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবারও জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘হজে মাবরুর’ তথা কবুলযোগ্য হজ’। (বুখারি : ২৬)

আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ না করার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। উচ্চারণ করেছেন কঠোর হুঁশিয়ারি। ইরশাদ হয়েছে-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ পৌঁছার পথ-খরচের মালিক হয়েছে অথচ হজ পালন করেনি, সে ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, এতে কিছু যায়-আসে না’। (তিরমিজি : ৮১২) 

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –