• বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩১

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪৫

পঞ্চগড়ের তিন উপজেলায় জামানত হারাচ্ছেন ১৩ প্রার্থী

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৪  

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন শেষ হয়েছে। এ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ জামানত হারাচ্ছেন ১৩ প্রার্থী। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন। 

চার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, তেঁতুলিয়া উপজেলায় কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু (আনারস), আব্দুল লতিফ তারিন (কাপ-পিরিচ), কাজী আনিছুর রহমান (দোয়াত-কলম) ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার শ্রী সুমন চন্দ্র রায় (আনারস)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলার আবু সাঈদ রহমান (তালা), আব্দুল লতিফ খান (টিউবওয়েল), আব্দুস সাত্তার (বৈদ্যুতিক পাখা), আশরাফ আলী (উড়োজাহাজ), কবির হোসেন (বই)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পঞ্চগড় সদরের নাছিমা খাতুন (ফুটবল) ও আটোয়ারী উপজেলার ফরিদা ইয়াসমিন (সেলাই মেশিন), মনোয়ারা বেগম (হাঁস) ও শেফালী পারভীন (বৈদ্যুতিক পাখা)।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে এক লাখ টাকা জমা দিতে হয়। আর ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য জমা দিতে হয় ৭৫ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে অনুযায়ী জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলার ১৩ প্রার্থীর।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৩৭টি কেন্দ্রে মোট ১৪ হাজার ৮১৪ ভোটের মধ্যে ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৯ হাজার ৩৬৪ ভোট। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীদের পেতে হবে ১০ হাজার ৪৪০ ভোট। সে মোতাবেক তেঁতুলিয়া উপজেলায় কাজী আনিছুর রহমান দোয়াত-কলম প্রতীকে ৯ হাজার ৯০৪, আব্দুল লতিফ তারিন কাপ-পিরিচ প্রতীকে ৫ হাজার ২৩৯ ভোট ও কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৮ ভোট। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আবু সাঈদার রহমান তালা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭৪৬, আব্দুল লতিফ খান টিউবওয়েল প্রতীকে ৫ হাজার ৯৭৮, আব্দুস সাত্তার বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২০৬, আশরাফ আলী উড়োজাহাজ প্রতীকে ৯ হাজার ৩১০ ও  কবির হোসেন বই প্রতীকে ২ হাজার ৬৮৯ ভোট পেয়েছেন। তারা প্রাপ্ত ভোটে বিধি মোতাবেক জামানত হারাচ্ছেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ২৯৫ জন। এ উপজেলার ৭৮টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৫২ হাজার ১১০। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ অনুযায়ী এ উপজেলার প্রত্যেক প্রার্থীকে পেতে হবে ৭ হাজার ৮১৬ ভোট। সে মোতাবেক এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে শ্রী সুমন চন্দ্র রায় আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৩ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বী নাছিমা খাতুন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৩৩ ভোট। এ প্রাপ্ত ভোটে তারা জামানত হারাচ্ছেন।

অপরদিকে আটোয়ারী উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ৭৯২ জন। ৪১টি কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৮ হাজার ১৯৮ ভোট। প্রদত্ত মোট ভোট অনুযায়ী ১৫ শতাংশ অনুযায়ী এ উপজেলার প্রত্যেক প্রার্থীকে পেতে হবে ৮ হাজার ৭২৯ ভোট। সে মোতাবেক এ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ারা বেগম হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৬৬ ভোট, ফরিদা ইয়াসমিন সেলাই মেশিন প্রতীকে পেয়েছেন ৩২০১ ভোট ও শেফালী পারভীন বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩৫। বিধি অনুযায়ী এ প্রাপ্ত ভোটে জামানত হারাচ্ছেন তারা।  

জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. এনামুল হক বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী মোট কাস্টিং ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট পেলে নিয়ম অনুযায়ী জামানত ফিরে পাবেন। যদি ১৫ শতাংশের নিচে কেউ ভোট পান তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আমরা সবার ভোটের হিসাব করছি। জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলার তিনটি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ৩৩ জন প্রার্থী।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –