• রোববার ১৬ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২ ১৪৩১

  • || ০৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

এক বছর সংসারের পর বিয়ে অস্বীকার, তালাকনামাও পাঠালেন কাজী

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৩  

সময়টা ২০২২ সালের ২৩ মার্চ। ওই সময় ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে কাজী মাহমুদুল হাসান খোকনের সঙ্গে ঢাকায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তরুণী। দীর্ঘ এক বছর সংসারও করেছেন তারা। এরপর ওই তরুণীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন খোকন। এমনকি স্ত্রী হিসেবে তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলায় বিয়েও অস্বীকার করেন তিনি। শুধু তাই নয়, গোপনে ওই তরুণীর ঠিকানায় পাঠান তালাকনামা। তবে তালাক মানতে না চাইলে ভুক্তভোগী তরুণীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন স্বামী খোকন। 

ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায়। অভিযুক্ত খোকন একজন স্কুলশিক্ষক ও নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন ওই ভুক্তভোগী তরুণী।

জানা যায়, গত বছর ২৩ মার্চ উপজেলার পাইকেরছড়া ইউপির গছিডাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান কাজীর ছেলে মাহমুদুল হাসান খোকনের সঙ্গে ঢাকায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ভুক্তভোগী। দীর্ঘ এক বছর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করেছেন। 

গত ১২ জানুয়ারি খোকনের বাড়িতে নিয়ে যেতে এবং বিবাহের কাবিননামার নকল চান ভুক্তভোগী নারী। তখন নানান অজুহাত দেখিয়ে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেন খোকন। এরপর বিয়ের কথা অস্বীকার করেন তিনি। পরে গোপনে একটি তালাকনামা ভুক্তভোগীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন।

এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার পাটেশ্বরী বাজারে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে খোকনের দেখা হলে ওই নারী তার পথরোধ করে সমাধান চান। সে সময় লোকজন জড়ো হলে খোকন কৌশলে নিজ বাড়িতে চলে যান।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, অনেক দিন থেকেই সে (খোকন) আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। তার উত্ত্যক্ত সহ্য করতে না পেরে ঢাকায় চলে যাই। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে আমাকে বিয়ে করে। এক বছরে প্রায় প্রতি মাসে ঢাকায় আমার বাসায় আসত। গার্মেন্টসে চাকরি করে যে টাকা জমিয়েছি, সেখান থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় খোকন। স্ত্রী হিসেবে তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলায় বিয়ের কথা অস্বীকার করে সে। পরে আমার ঠিকানায় একটি তালাকনামা পাঠায়। আমি এই তালাক মানি না বললে, আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে সে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান খোকনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার ছোটভাই মাহমুদুল হাদি মীম বলেন, এ বিষয়ে কোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কাজী (খোকন) সাড়া না দেওয়ায় কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –