• রোববার ১৯ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪৩১

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে রিকশাচালক বাবার আকুতি

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৩  

         
কুড়িগ্রামে দরিদ্র বাবার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (১২) ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। অনিশ্চয়তা নিয়ে বেঁচে আছে ছেলেটি। টাকার অভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছে না তার পরিবার। আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের পানাতি পাড়া এলাকার রিকশাচালক তাজুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাস দুয়েক আগে আবু বক্কর সিদ্দিক মাদরাসা গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে মাঝেমধ্যেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ত। পরে কবিরাজ ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের দারস্থ হন তার বাবা। সেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয় আবু বক্কর সিদ্দিক। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিন। তবে এক দিন হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয় পড়ে আবু বক্কর সিদ্দিক। লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। পরে স্থানীয় ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবার। সেখানেই সপ্তাহ খানেক থাকার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রংপুরের ডা. আব্দুল কাদের জেলানীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলাকালে তারা জানতে পারেন আবু বক্কর সিদ্দিক ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। রংপুর মেডিকেলের ওই চিকিৎসক আবু বক্কর সিদ্দিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই রিকশাচালক বাবার। কোনো উপায় না পেয়ে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন বাড়িতে। এখন ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন জায়গায় ছুটছেন অসহায় রিকশাচালক বাবা।

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আবু বক্কর সিদ্দিকের দাদি আকলিমা বেগম বলেন, একদিন আবু বক্কর এসে আমাকে বলতো আমার খালি মাথা ঘুরে। আমরা মনে করছিলাম মাদরাসায় যাওয়ার ভয়ে এসব বলছে। আবারও ২-৩ দিন পর বাড়িতে এসে তার মাথা ঘুরার কথা বলতো। আমরা সেসময় গুরুত্ব দেই নাই। একদিন খুব জ্বর আসলো সবাই বলছে জন্ডিস হয়েছে মনে হয়। এজন্য কবিরাজ ও গ্রামের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাই। কোনোভাবে জ্বর কমে না। পরে একদিন হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। আমরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে এক সপ্তাহ থাকার পর রংপুর নিয়ে যেতে বলে ডাক্তার। পরে রংপুর নিয়ে যাই। রংপুরের ডাক্তারও পরীক্ষা করে ঢাকায় নিয়ে যাইতে বলে। আমাদের তো টাকা পয়সা নাই কীভাবে ঢাকায় নিয়ে যাব? আমার ছেলে রিকশা চালায়ে কোনোরকমে সংসারটা চালায়। 

আবু বক্কর সিদ্দিকের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার হইছে। কুড়িগ্রাম-রংপুরে চিকিৎসা করে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা শেষ। যে টাকা খরচ করছি সব মানুষের কাছে ধার নেওয়া। রংপুরের ডাক্তার ঢাকায় নিয়ে যেতে বলছে। এখন কীভাবে ঢাকা নিয়ে যাব সেই চিন্তায় আছি। ৭-৮ লাখ টাকা নাকি লাগবে এতো টাকা কই পাব আমরা। টাকার জন্য কী তাহলে আমার ছেলের চিকিৎসা হবে না। কেউ যদি আমার ছেলের পাশে দাঁড়াতো, মনে হয় আমার ছেলেটা সুস্থ হয়ে যেত। এখন কোনো উপায় না পেয়ে তার চিকিৎসা করার জন্য হাট বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাচ্ছি।

প্রতিবেশী আশালতা বেগম নামের এক নারী বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক আমার সম্পর্কে নাতি হয়। সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। ওর বাবা-মা গরিব মানুষ। এই রোগের চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য তাদের নাই। কেউ যদি সহোযোগিতা করতো তাহলে তাদের অনেক উপকার হতো।

সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নের তাজুল নামের এক যুবকের ছেলে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তারা ঠিকমত খেতেই পারে না, আবার ছেলের চিকিৎসা করাবে কীভাবে। আমরাও স্থানীয়ভাবে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। এদিকে যদি সমাজের দানশীল ও বৃত্তবান মানুষজন এগিয়ে আসে হয় তো তার ছেলের একটা চিকিৎসার ব্যবস্থা হতো আমার বিশ্বাস। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আবু বক্কর সিদ্দিকের বাবা তাজুল ইসলামের সঙ্গে যে কেউ যোগাযোগ করতে চাইলে এই নম্বরে ০১৭৪৬৫৩৪০০১ যোগাযোগ করা যাবে।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –