• শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪৩০

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শিশুদের শহীদ মিনার

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সর্বস্তরের মানুষ আজ ভাষা শহীদ দিবস পালন করছেন। শুধু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই নয়, বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করেও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে ভাষা শহীদদের। কোথাও বাঁশ, কোথাও মাটি আর ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শহীদ মিনার। যা দিয়েই তৈরি হোক না কেন, কোথাও শ্রদ্ধার কমতি নেই।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে পাড়ায় পাড়ায় তৈরি হয়েছে শহীদ মিনার। কুড়িগ্রামের পৌর শহরের পুরাতন স্টেশন পাড়া, হরিকেশ মধ্যপাড়াসহ বিভিন্ন পাড়ায় শিশুদের হাতে তৈরি হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক অস্থায়ী শহীদ মিনার। বাঁশ, ইট, কাঠ, পাট খড়ি আর সুতা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ মিনার। এলাকার ছোট ছোট শিশু কিশোররা ফুল দিয়ে সাজিয়েছে মিনারের বেদি।

কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন রেলস্টেশন পাড়ার শিশু সুষ্মিতা দত্ত বলে, কয়েক বছর ধরে আমরা এভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে আসছি। আমাদের পাড়ায় প্রায় ৩০টার মতো এমন শহীদ মিনার নির্মাণ করা আছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের অভিভাবকরা আমাদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

কুড়িগ্রাম পৌর শহরে অস্থায়ী শহীদ মিনারের সংখ্যা প্রায় দু'শো। গতবারে এই সংখ্যা ছিলো ১৩৮টি।

শিশু কিশোরদের এই উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রচ্ছদ কুড়িগ্রাম শহীদ মিনার নির্মাণের ওপর প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে। গতবার সংগঠনটি কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ১৩৮টি শহীদ মিনারকে পুরস্কৃত করে। এই উদ্যোগের সাথে জড়িত ৭ শতাধিক শিশুদের হাতে তারা পুরস্কার তুলে দেয়। এবারও তারা পরিদর্শন করে তালিকা প্রস্তুত করছেন।

প্রচ্ছদ কুড়িগ্রামের সভাপতি শ্যামল ভৌমিক বলেন, গত ৩ বছর থেকে এই প্রতিযোগিতা চলছে। এবার ৪র্থ বারের মতো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। গতবছর পৌর শহরে আমরা ১৩৮টি শহীদ মিনারের ৭২০ জন শিশুকে পুরষ্কৃত করেছি। এবার এই সংখ্যা ২ শতাধিক।

এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অবিভাবকরাও। তারা বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সন্তানদের এমন কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন।

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় প্রাণ পায় শহীদ মিনার। রক্ত দিয়ে যে মিনার গড়েছেন ভাষা শহীদ-সংগ্রামীরা, ভালোবাসার অর্ঘ্যে তা ভরিয়ে তোলেন জনতা।

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে। তাদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল মায়ের ভাষা। বাঙালি বুঝিয়ে দিয়েছিল, তাদের বর্ণমালা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তারপর থেকেই একুশের প্রথম প্রহরে জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে আসছে।

– কুড়িগ্রাম বার্তা নিউজ ডেস্ক –